এখন কোটিপতি আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অন্যত্র রাখছেন - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এখন কোটিপতি আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অন্যত্র রাখছেন


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন:এখন কোটিপতি আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অন্যত্র রাখছেন। এর মধ্যে পরিবারভিত্তিক ব্যক্তিগত আমানতকারীরা টাকা সরাচ্ছেন বেশি। ২০২৪ সালের জুন থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত এক বছরে ২৫ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন আমানতকারী ৭ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে তুলে অন্যত্র সরিয়েছেন। একই সময়ে ব্যাংকগুলোতে এ ধরনের আমানতকারী কমেছে ১১৯ জন। তবে আলোচ্য সময়ে সার্বিকভাবে কোটিপতি আমানতকারী ও তাদের আমানতের পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু আমানতের প্রবৃদ্ধির হার একেবারেই কম। ফলে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ব্যাংক খাত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে।আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে সংগঠিত নজিরবিহীন লুটপাটের নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হচ্ছে। ব্যাংক খাত থেকে আগে ছোট আমানতকারীরা টাকা তুলে অন্যত্র রাখতেন।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ব্যাংকগুলোতে পরিবারভিত্তিক যেসব ব্যক্তিগত আমানতকারীর ২৫ কোটি টাকার বেশি অঙ্কের হিসাব রয়েছে, সেসব হিসাব থেকে তারা টাকা তুলে অন্যত্র রেখেছেন। এর মধ্যে ২৫ কোটি টাকার বেশি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা আমানতকারীর হিসাব ২০২৪ সালের জুনে ছিল ১৫১ জন। তাদের হিসাবে জমা ছিল ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গত বছরের মার্চে এ ধরনের আমানতকারীর হিসাব সংখ্যা কমে দাড়ায় ৯৮ জনে। একই সময়ে তাদের হিসাবে জমা আমানত ছিল ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে একই ধরনের আমানতকারীর হিসাব সংখ্যা আরও কমে দাড়ায় ৭৮ জনে। ওই সময়ে তাদের হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ আরও কমে দাড়ায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এক বছরের মধ্যে এ ধরনের আমানতকারীর সংখ্যা কমেছে ৭৩ জন। একই সময়ে আমানত কমেছে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন গ্রাহকের সংখ্যা ২০২৪ সালের জুনে ছিল ৭২ জন। তাদের হিসাবে জমা টাকার পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। গত বছরের মার্চে এ ধরনের গ্রাহকের সংখ্যা কমে ২৬ জনে দাঁড়ায়। তাদের হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ কমে দাড়ায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে একই ধরনের আমানতকারী গ্রাহক ২৬ জনে অপরিবর্তিত ছিল। তবে জমা টাকার পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা বেড়ে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আলোচ্য এক বছরে এ ধরনের হিসাবে আমানতকারী কমেছে ৪৬ জন। তাদের হিসাবে জমা টাকার পরিমাণ কমেছে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আলোচ্য দুই ক্যাটাগরির হিসাবে আমানতকারীর সংখ্যা কমেছে ১১৯ জন। তাদের হিসাবে আমানত কমেছে ৭ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, আলোচ্য আমানতকারীরা টাকা তুলে ছোট ছোট অঙ্কে ভাগ করে অনেক ব্যাংকে পুনরায় জমা রেখেছেন। আবার অনেকে টাকা পাচার করে বিদেশে নিয়ে গেছেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজন যারা দেশ থেকে পালিয়েছেন তারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বিদেশে নিয়ে গেছেন, বা অন্যত্র রেখেছেন। এ কারণে বড় অঙ্কের আমানতকারী কমার পাশাপাশি তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণও কমেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকগুলোতে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারী যেমন বেড়েছে, তেমনি তাদের সঞ্চয়ও বেড়েছে। পাশাপাশি ২ লাখ টাকার বেশি থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারী বৃদ্ধির পাশাপাশি আমানতও বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এ ধরনের হিসাবে আমানতের প্রবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঞ্চয়ের সক্ষমতা ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে ২৫ লাখ টাকা আমানতকারীর সংখ্যা হ্রাস ও তাদের আমানত কমা ইঙ্গিত দিচ্ছে-ছোট আমানতকারীদের মধ্যে এ আমানত বণ্টন হচ্ছে এবং আমানতের সামগ্রিক ভিত্তির মধ্যে বৈচিত্র্য আসছে। ২৫ লাখের বেশি থেকে ৫০ লাখ টাকা, ৫০ লাখের বেশি থেকে ১ কোটি টাকা এবং ১ কোটির বেশি থেকে ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতকারীদের হিসাব যেমন বেড়েছে, তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে আমানতের পরিমাণ। প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুনে পরিবারভিত্তিক ব্যক্তিগত আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ২৩ লাখ। তাদের হিসাবে জমা ছিল ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। গত জুনে তা বেড়ে ১৫ কোটি ৮৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। তাদের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি কোটিপতি পরিবারভিত্তিক আমানতকারীর সংখ্যা ২০২৪ সালের জুনে ছিল ৩৪ হাজার ৯৪৫ জন। তাদের হিসাবে আমানত ছিল ৯২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গত জুনে আমানতকারী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৬ জনে। তবে তাদের হিসাবে জমার স্থিতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে ব্যাংকগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি খাতের আমানতকারীও রয়েছে।

Top