দেশের তরুণ সমাজ তাদের রায় জানিয়ে দিয়েছে,ইনসাফের বিজয় হবে
মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের তরুণ সমাজ তাদের রায় জানিয়ে দিয়েছে। ইনসাফের বিজয় হবে। ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন করা হবে না। জাতি হিসাবে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের নাগরিক। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, ১১ দলের পক্ষে গণজোয়ার উঠেছে। এই গণজোয়ার কোনো অপশক্তি ঠেকাতে পারবে না। সোমবার মোহাম্মদপুরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হকের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শফিকুর রহমান বলেন, দেশকে আমরা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত করব। যারা নিজেরাই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি করে তাদের পক্ষে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ঢাকা-১৩ আসনে রিকশা শুধু একটি প্রতীক নয়; এটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, তরুণ প্রজন্ম ও নারী সমাজের অধিকার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনার প্রতীক। আগামী ১২ তারিখ রিকশা মার্কায় ভোট দিয়ে আল্লামা মামুনুল হককে বিপুল ভোটে বিজয়ী করুন। ১১ দল বিজয়ী হলে এই এলাকার মানুষ একজন সাহসী, ত্যাগী ও মর্যাদাবান অভিভাবক পাবে।সমাবেশে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, আপনারা আমাকে সংসদে পাঠালে আমি সেখানে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মতো পবিত্র কুরআনের কথা বলব। নির্বাচিত হলে কোনো মায়ের সন্তানকে মাদকের নীল দংশনে ধ্বংস হতে দেব না। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত এক নতুন ঢাকা-১৩ উপহার দেব। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি দল এখানে অস্ত্র ব্যবসায়ীর ছেলেকে প্রার্থী করেছে। মোহাম্মদপুরকে আবারও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য বানানোর চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।
ইসিকে হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের : বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সারথি নাহিদ ইসলাম নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধের আইন কোন অজুহাতে করা হয়েছে? আমরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছি, আজকের দিনের আলো থাকতে থাকতে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হবে। মিডিয়া ব্ল্যাকআউট করে কোনো কারচুপি বরদাশত করা হবে না।’
ভোটকেন্দ্র পাহারার আহ্বান সাদিক কায়েমের : ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, ‘জুলাইয়ের পক্ষে ১১ দলের জোয়ার দেখে অনেকে পেছনের দরজা দিয়ে সংসদে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। আগামী ১২ তারিখ আপনাদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে সব ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং রুখে দিতে হবে।ঢাকা-১৩ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গণমিছিলের নগরী : প্রচারের শেষ দিনে সোমবার রাজধানী ঢাকা ছিল গণমিছিলের নগরী। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঢাকা- ১৫ আসনসহ ঢাকার সবক’টি আসনেই ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে গণমিছিল করা হয়েছে। মিরপুরের আগারগাঁও তালতলা থেকে বিকালে ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে গণমিছিল বের হয়। জামায়াতের আমির নিজে এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন। ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনের পক্ষে গণমিছিল বের হয় কাওরান বাজারের সার্ক ফোয়ারা থেকে। প্রার্থী নিজেই এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন। ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে বাদ জোহর গণমিছিল বের হয় মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান থেকে। রিকশা প্রতীক হাতে মানুনুল হক নিজেই এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন। এনসিপির পক্ষে ঢাকা-১১, ঢাকা-৯ ও ঢাকা ১৮-তে গণমিছিল বের করা হয়। এসব মিছিলে প্রার্থীরা নিজে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও অন্য সব আসনেও গণমিছিল বের হয়। সোমবারের এসব মিছিলের কারণে রাজধানী পরিণত হয়েছিল মিছিলের নগরীতে।
ইনসাফের বাংলাদেশ উপহার দেব ইনশাআল্লাহ -ডা. শফিকুর রহমান
নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি তবে একটি দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশ উপহার দেব ইনশাআল্লাহ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি প্রচারের শেষ দিন সোমবার রাতে ঢাকার দোহারে আসেন শফিকুর রহমান। তিনি জয়পাড়া পাইলট স্কুল মাঠে ঢাকা-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের নির্বাচনি সমাবেশে বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, নতুন কোনো ফ্যাসিস্টকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না মানুষ। তাদের ঝেঁটে সরাতে হবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দলের সরকার হবে না। ১৮ কোটি জনতার সরকার হবে। তাই একটিবার সুযোগ দিন। শফিকুর রহমান বলেন, দোহার একটা কৃষি এলাকা। এখানে কৃষি শিল্প গড়ে তুলতে চাই। নজরুল ইসলামকে জেতালে মানুষের সব সমস্যা সমাধান করা হবে।