উচ্চসুদ রেখেই বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রত্যাশা!
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না আসায় এবারও নীতি সুদহার (পলিসি রেট) অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক।মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ধারা বজায় রাখা হবে।একইসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে বিনিয়োগের লক্ষ্য। অর্থাৎ উচ্চসুদ রেখেই বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রত্যাশা।সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, প্রধান অর্থনীতিবিদ, উপদেষ্টা, নির্বাহী পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।মুদ্রানীতিতে আগামী জুন নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগের মুদ্রানীতিতে যা ৮ শতাংশ ছিল। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২০ শতাংশ। গত মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর নাগাদ সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ ধরা হলেও অর্জিত হয়েছে ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। আগামী জুন নাগাদ ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ ধরা হয়েছে। আর মুদ্রা সরবরাহ বা ব্রড মানি গত ডিসেম্বর নাগাদ ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ থাকলেও অর্জিত হয় ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগামী জুনে তা ১১ দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ৪৩০ কোটি ডলার কেনায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বাজারে ঢুকেছে। যে কারণে মুদ্রা সরবরাহ বাড়তির দিকে রয়েছে।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা ছাড়া বাকি সব সূচকে মুদ্রানীতি সফল হয়েছে। আমরা খুব ভালো করেছি, শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি। এটাও কমবে। সামনের দিনগুলোতে অর্থনীতি আরও ভালো করবে।’ তিনি বলেন, ‘একটি লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলে সব অর্জন অস্বীকার করা ঠিক নয়। তাই এই মুহূর্তে নীতি সুদহার কমানো হবে না।নীতি সুদহার বেশি রাখার কারণে বিনিময়হার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে দাবি করে গভর্নর বলেন, ‘এর সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ছে।গভর্নর সংস্কার ইস্যুতে নিজের আক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘গভর্নর হিসাবে এই সরকারের সময়ে পরিচালনাগত স্বাধীনতা ভোগ করেছি। কোনো ধরনের চাপ অনুভব করিনি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা রয়ে গেছে।’
গভর্নর বলেন,আমরা পরবর্তী সরকারের কাছে এ বিষয়টি উপস্থাপন করব।জাতির স্বার্থে হলেও এটি করা উচিত।এটি বাস্তবায়ন করতে না পারলে অতীতে যেভাবে ব্যাংক খাত অপব্যবহার ও লুটপাটের শিকার হয়েছিল,তা আবার ফিরে আসতে পারে।ব্যাংক কোম্পানি অর্ডার বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক চাপ প্রতিহত করা সম্ভব হবে।তিনি বলেন,রাজনীতিবিদরা স্বল্প মেয়াদে দ্রুত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চান, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব হলো টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।যা আমরা যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণে দেখি।এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন,পে-কমিশন,এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।এটা বাস্তবায়ন হলে সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়বে।সরকারের ঋণ বাড়লে ব্যক্তি খাত কাঙ্ক্ষিত ঋণ পাবে না। মূলস্ফীতিও কমবে না।সুদহার আরও বেড়ে যেতে পারে। এসব কিছুই সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে।মুদ্রানীতি ঘোষণার শুরুতে ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার এলে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা বাড়বে।’ তিনি বলেন,বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আইএমএফ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে সংস্থাটির সব ধরনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ছয় মাসের আগাম মুদ্রানীতির ভঙ্গি প্রকাশ করে। যেখানে মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে মুদ্রা সরবরাহ কেমন রাখা হবে, তার একটি ধারণা দেওয়া হয়।