জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রতিষ্ঠার এবং দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা দুই মেট্রোরেল পাচ্ছে ৫৮ হাজার কোটি টাকা ৪৯তম বিসিএস বাদ পড়া ৪৬ জনের নিয়োগ সোমবার দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার কঠোর অবস্থান বিএনপির নানিয়ারচরে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভা: মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স ঘোষণা বরিশালে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় আওয়ামী লীগের পেতাত্মা বাবুল মোহরীর নেতৃত্বে দুই সাংবাদিকের ওপর হাম... এক পুলিশ কর্মকর্তা! পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক সব ধারণা পাল্টে দিচ্ছে হাসপাতালে সাংবাদিক বেলায়েত বাবলুর পাশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ফেসবুকের কাঠগড়ায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা—অভিযোগের আগে প্রমাণ কোথায়? কুমিল্লার প্রতিটি উপজেলায় গঠিত হবে ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চের কমিটি

জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রতিষ্ঠার এবং দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন:এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি করার নয়,জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রতিষ্ঠার এবং দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরিচয় হবে মেধা দিয়ে, ধর্ম দিয়ে নয়। শনিবার দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারীতে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে বিকাল পৌনে ৪টায় লাখো মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সব নাগরিক মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পাবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলকে সবাই জানে কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসাবে। বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে এই এলাকায় কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ আগামী বিএনপি সরকার মওকুফ করে দেবে। শুধু তাই নয়, এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণও সরকারের পক্ষ থেকে শোধ করে দিতে চাই। আমরা চাই না এই ক্ষুদ্রঋণের বোঝা মানুষ আর বহন করুক। তারেক রহমান বলেন, মা-বোনদের হাতে যেভাবে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে কৃষক ভাইদের জন্যও কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ভাইদের ঋণ পেতে সুবিধা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের মা-বোন ও শিশুরা যাতে ঘরে বসেই চিকিৎসাসেবা পেতে পারে সেজন্য সমগ্র বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ হেলথ কেয়ারার নিযুক্ত করতে চাই, যাদের কাজ হবে গ্রামে গ্রামে ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোন ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া। যাতে তাদের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন না হয়।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছরে এ দেশের মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তাই এই নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করার মাধ্যমে দেশের মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, দিনাজপুর-৫ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান, দিনাজপুর-৪ আসনের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৩ আসনের প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

শুধু ভোট দিলে চলবে না, দেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে হবে : নীলফামারী বড় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে এ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি উল্লেখ করে বলেন, নীলফামারীসহ উত্তরবঙ্গের মানুষের একটা প্রাণের দাবি আছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে, সেই প্রাণের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ। এছাড়া উত্তরা ইপিজেড সম্প্রসারিত করা হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, আপনাদের ভোটের অধিকার ডাকাতি করে নিয়ে গিয়েছিল একটি দল। আবারও সুযোগ এসেছে আপনাদের ভোটাধিকারের। শুধু ১২ তারিখ ভোট দিলে চলবে না, দেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে হবে। তিনি বলেন, আমার প্রথম ঠিকানা বাংলাদেশ, শেষ ঠিকানাও বাংলাদেশ।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-১ আসনে বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম দলের প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, নীলফামারী-৩ আসনের প্রার্থী আলহাজ সৈয়দ আলী ও নীলফামারী-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার।

বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ : ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয়, এটি মূলত দেশ পুনর্গঠনের লড়াই। গত ১৫ বছরে হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ও বাক-স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাই এই নির্বাচনের মূল লক্ষ্য।

২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন তারেক রহমান। জনসমুদ্রে পরিণত হয় তার জনসভা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনো ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীও বিশ্বাস করে এ দেশই তাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। জনগণের শক্তিতে আমরা দেশ গড়তে চাই। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৭১-এর মতো ২৪-এও আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। আগামীতেও এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষমতায় গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করা হবে। এছাড়া জেলায় একটি ক্যাডেট কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও তরুণদের জন্য আইটি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও তার বক্তব্যে উঠে আসে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট চান। তিনি বলেন, আপনারাই এ দেশের মালিক। ১২ তারিখ পর্যন্ত প্রার্থীদের আপনারা দেখে রাখবেন, আর নির্বাচিত হওয়ার পর তারা ২৪ ঘণ্টা আপনাদের দেখে রাখবে। জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় মির্জা ফখরুল ইসলামসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

Top