আমরা ঐক্যবদ্ধ একটা জাতিকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই
প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে বলেছেন,হেরে যাওয়ার পূর্বাভাস শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা দেখিয়ে দিয়েছে লাল কার্ড। ১২ তারিখে হবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড। ফ্যাসিবাদ নতুন না পুরাতন, এটা বিবেচ্য ব্যাপার নয়। ফ্যাসিবাদ তোমাকে লাল কার্ড। তুমি যে অ্যাপ্রোনই গায়ে দিয়ে আসো, তোমাকে লাল কার্ড।’ বৃহস্পতিবার বিকালে রাজশাহীতে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির এসব কথা বলেন। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বেলা ১১টায় নওগাঁর জনসভায় তিনি বলেছেন, সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও তিনি নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জেও নির্বাচনি সমাবেশ করেছেন। রাজশাহীর জনসভায় তিনি বলেন, ‘যাদের অতীতেও খাসলত খারাপ ছিল, এখনো যারা লোভ সামলাতে পারেনি, সেই বিড়ালের হাতে গোশত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দেবেন? এরা রাষ্ট্রের জনগণের জান, মাল এবং ইজ্জতের নিরাপত্তা দেবে? এখনই দিচ্ছে না, তখন দেবে? আফসোস! আফসোস, তারাও মজলুম ছিলেন। কেন যে এখন বদলে গেলেন বুঝতে পারলাম না। বিভিন্ন জায়গার দখলদারত্ব নিতে গিয়ে নিজেদের ভেতর ২৩৪ জন শেষ। তারপরে এখন আমাদের খুন করা শুরু হয়েছে। এরপর আমাদের এখন গালি দেওয়া শুরু হয়েছে।’ ডা. শফিকুর রহমান বলেন,যারা চাঁদাবাজি করে না,যারা কাউকে কষ্ট দেয় না, যারা দুর্নীতি করে না,যারা মামলা বাণিজ্য করে না,বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষকে হয়রানি করে না;তাদের এখন বলা হচ্ছে জালেম। হায় আল্লাহ, এ কী দুনিয়ায় পড়লাম এসে! এদের বলব, চোখ মেলে দেখেন, জনগণ আপনাদের কীভাবে দেখে।
পরিবর্তন ও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে যুবক এবং মা-বোনদের উত্থান দেখে মাঘ মাসেই অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, মাথা ঠান্ডা রাখেন। মাথা গরম করবেন না। রাজনীতি করতে হলে ঠান্ডা মাথায় আসেন। আপনি রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।
ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ১৩ তারিখ থেকে আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সেই বিজয় যদি অর্জিত হয়, ইনশাআল্লাহ, এটা সবার বিজয় হবে। সেদিন আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা সেজদায় পড়ে যাব। আমরা ওই দিনটার অপেক্ষা করছি। এখন থেকে পাহারা বসাবেন। কোনো ভোট ডাকাত, ভোট চোর, ভোট ইঞ্জিনিয়ার, কাউকে এবার কোনো ছাড় নেই।গণভোটে হ্যাঁর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ মানেই হচ্ছে নতুন বাংলাদেশ। পুরোনো রাজনীতিকে লাল কার্ড। যে রাজনীতি মানুষ খুন করে, দেশে আয়নাঘর তৈরি করে, দেশপ্রেমিক নেতাদের খুন করে, যে রাজনীতি আমার দেশের সব সম্পদ লুণ্ঠন করে, যে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্য ব্যবসায় রূপান্তর করে, ১২ তারিখ সেই রাজনীতিকে ইনশাআল্লাহ লাল কার্ড। এজন্য আমরা সবাই গণভোটে হ্যাঁ বলব। হ্যাঁ মানে আজাদি। না মানে গোলামি।
তিনি বলেন, আমরা এই জাতিকে আর বিভক্ত করতে দেব না।আমরা ঐক্যবদ্ধ একটা জাতিকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমাদের ১১ দলের স্লোগান হচ্ছে-ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আমাদের কথা সাফ। আমরা আল্লাহর দরবারে ওয়াদাবদ্ধ। জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। জনগণের রায়ের মাধ্যমে আল্লাহ যদি এই দেশ পরিচালনার সুযোগ আমাদের দেন; আমরা ইনশাআল্লাহ কাউকে আর চাঁদাবাজি করতে দেব না। এই দেশে কারও দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না। এই দেশে রাজার ছেলে রাজা হবে, বংশানুক্রমে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি এই দেশে আর চলবে না। এই দেশে রাজনীতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে। এই দেশে কোনো আধিপত্যবাদী রাজনীতি আর চলবে না।তিনি বলেন, এই যুবসমাজকে দমানো যায়নি, দমানো যাবে না। যুবসমাজের অঙ্গীকার এবং প্রত্যাশা আমরা পূরণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদি এই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি, আমাদের রাজনীতি করার দরকার নেই। তারা যা চেয়েছে, সেই বাংলাদেশটাই গড়তে চাই। আমরা একটা মানবিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
জনসভা থেকে জামায়াত আমির বেশকিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বলেন, ‘মায়েরা ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে সব জায়গায় নিরাপদ থাকবেন। শিশু জন্মের পর তার স্বাস্থ্য-পুষ্টির সব দায়িত্ব সরকারের। ৫ বছর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনা খরচে শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সারা জিন্দেগি জাতিকে উজাড় করে দিয়ে একটা পর্যায়ে যারা অবসরে চলে যাবেন, তাদেরও চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে সরকার এবং রাষ্ট্র। সেটাও বিনা পয়সায়। মাঝখানে যেটা, সেটা অংশগ্রহণমূলক। কিছু আমার সামর্থ্য অনুযায়ী, আর কিছু সরকারের। আমরা একটা মানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলব। প্রতিটি বিভাগীয় নগরে ও জেলা কেন্দ্রে আমরা মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তুলব। যেসব জায়গা শ্রমঘন, সেখানে শ্রমিকদের জন্য আলাদা হাসপাতাল হবে। তারা যাতে সেবা নিতে গিয়ে কোনো সমস্যায় না পড়েন।তিনি বলেন, রাজশাহীর কিছু সমস্যা আছে। এখানে একটা মেডিকেল কলেজ আছে, বহু পুরোনো। তার সঙ্গে একটা ডেন্টাল ইউনিট করা হয়েছে, ডেন্টাল কলেজ করা দরকার। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেটা ঘুমিয়ে পড়েছে। আর কটা দিন তো, সবুর করুন। যদি আপনাদের পছন্দের লোকদের দায়িত্ব দেন, আপনাদের কিছু করতে হবে না। আমরাই খুঁজে খুঁজে সব বের করব, জাতিকে সেবা দেওয়ার জন্য। আপনাদের ডেন্টাল কলেজকে আমরা টান দিয়ে জাগিয়ে তুলে দেব।
তিনি বলেন, সুগার মিল লোকসানি। কেন লোকসানি হবে? আমার দেশের মাটিতে আখ ফলে। আমার দেশের শ্রমিকরা কাজ করে। তাহলে লোকসানি কেন? চুরি-চামারির কারণে লোকসানি। রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, সমুদ্রে এখনো আমরা আমাদের সম্পদ আহরণে ঢুকতে পারিনি। আল্লাহ আমাদের যদি তৌফিক দেন, কারও চোখ রাঙানির পরোয়া করব না, ইনশাআল্লাহ। দেশের সম্পদ দেশের মানুষের জন্য তুলে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।এই জনসভা থেকে ডা. শফিকুর রহমান রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। রাজশাহী জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এই জনসভায় ১১ দলীয় জোটের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বক্তব্য রাখেন। এর আগে দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আরেকটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির। সেখানেও তিনি দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান।
নওগাঁ : জামায়াত আমির বলেছেন, কোনো পরিস্থিতি হলেই যারা মুসলমান নন, তারা ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকবে কেন? সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে আমরা গুঁড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সেই পরিবেশ আমরা রাখব না। এ দেশ আমাদের সবার। সবাইকে নিয়েই আমরা চলব। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে নওগাঁ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সব জায়গায় নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর। সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে। যারা দুর্নীতি করেছে, বিদেশে টাকা পাচার করেছে, ক্ষমতায় এলে এসব চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে আনা হবে।শফিকুর রহমান বলেন, নওগাঁ জেলায় সারা দেশের ১০ ভাগের ১ ভাগ ফসল উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু এই জেলা তার ন্যায্য পাওনা পায়নি। জামায়াত ক্ষমতায় এলে নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে চলা প্রধান সড়কটি চার লেন করা হবে। উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে। ফল প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি করা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করা হবে।নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন-নওগাঁ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।
নাটোর : ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে আল্লাহ জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় নিলে সবার জন্য ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। কারও দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না। একজন সাধারণ নাগরিক দুর্নীতি করলে, লুটপাট করলে যেমন বিচারের আওতায় আনা হবে, তেমনি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি দুর্নীতি-লুটপাট করলেও বিচারের আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় নাটোরে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জেলা ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মদিনার আদলে দেশ গঠন করে জাতিকে উপহার দেওয়া হবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ৫ বছর পর্যন্ত প্রতিটি শিশু এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সব মানুষের সুচিকিৎসার দায়িত্ব নেবে সরকার। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ, সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে আবার আগেই দুর্নীতির অভিযোগ করলেও হবে না। চোর চুরি করলে আগে দেখতে হবে তার মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা আছে কিনা। আগে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। খাবার না দিয়ে চোরের বিচার করতে বসলে হবে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের খাবারের ব্যবস্থা করা। নাটোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ড. মীর নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. সাদেকুর রহমানের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস এসএম ফরহাদ, নাটোর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী, অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন খান প্রমুখ। বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান নাটোর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, নাটোর-২ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী, নাটোর-৪ আসনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম ও নাটোর-৩ আসনের জোট মনোনীত প্রার্থী এনসিপির জেলা সদস্য সচিব এসএম জার্জিস কাদির বাবুকে পরিচয় করিয়ে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে বিচার, যে শাস্তি হবে, একজন প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী সেই অপরাধ করলে তাদেরও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। সেই বিচার আমরা বাংলাদেশে কায়েম করতে চাই। এই বিচার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সবার জন্য সমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জামায়াত রাষ্ট্রের দায়িত্বে গেলে উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী করে গড়ে তোলা হবে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে দলীয় তিন প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবু জার গিফারীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।