দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে আয়মান রাহাত সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।এসব বিষয়ে অভিযোগ জানাতে সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছে এনসিপির একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসেন, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নুর এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান রাহাত।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৩০ জানুয়ারির একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেরি উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় জনগণের ওপর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলা চালায়। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।আয়মান রাহাত বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে পরদিন আবার মিছিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে বলেছে, প্রশাসন তাদের পক্ষে রয়েছে। এরপরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিএনপির এক শীর্ষ নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে প্রতিনিধিদল। আয়মান রাহাত বলেন, বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী দাবি করেছেন-পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের জরিপের ভিত্তিতে বিএনপির প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। এই দাবি সত্য হলে নির্বাচনের সময় এসব সংস্থার নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কৃষিঋণ মওকুফ সংক্রান্ত বক্তব্যের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তার চিঠি পাঠানোর বিষয়টিও বৈঠকে অবহিত করা হয়। এনসিপির অভিযোগ, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাজনৈতিক বক্তব্য বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিলে তা নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থি।
গণভোট ইস্যুতেও কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এনসিপি। তাদের অভিযোগ, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-যে কোনো পক্ষকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা প্রচার চালানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
শেরপুরে জামায়াতের এক নেতার নিহত হওয়ার ঘটনা, নারায়ণগঞ্জে ভোটারদের হুমকি, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং নারী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে। এসব প্রসঙ্গে ব্রিফিংয়ে আয়মান রাহাত বলেন, নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিলেও বাস্তবে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তা না হলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদৌ সম্ভব কি না-সে প্রশ্ন থেকেই যায়।নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তাতে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না এনসিপি। আয়মান রাহাত বলেন, হামলার তিন-চার দিন পার হয়ে গেলেও যখন কেউ গ্রেফতার হয় না, তখন আশ্বাসের কোনো মূল্য থাকে না। একটি নির্দিষ্ট পক্ষ যখন অনবরত হামলা করে পার পেয়ে যাচ্ছে, তখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।