হাবিবসহ ডিএমপির তিন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাবিবসহ ডিএমপির তিন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড


মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:জুলাই গণ-আন্দোলনে রাজধানীর চাঁনখারপুলে স্কুলছাত্র আনাসসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।এ মামলার ৮ আসামির মধ্যে রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে (পলাতক) ৬ বছর; শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে ৪ বছর এবং একই থানার তিন পুলিশ কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া অপর দুই আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্মকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী (পলাতক) এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম (পলাতক)। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

পুলিশের যে পাঁচ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে,তা ন্যায়সংগত হয়নি বলে মন্তব্য করছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, এই পাঁচ আসামির সাজা বাড়ানোর জন্য আপিল করবেন তারা। মামলায় কয়েকজন আসামির স্বল্পমেয়াদি সাজায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শহীদদের পরিবারও। তারা রায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলেন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের একটি অডিও কল রয়েছে, যিনি পুলিশ কমান্ড সেন্টার থেকে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে দমাতে চায়নিজ রাইফেল দিয়ে সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। তার এই নির্দেশের পরই প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন পুলিশ সদস্যরা। আদালত বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি প্রমাণিত হয়েছে, ওয়াইড স্প্রেড এবং সিস্টেমেটিক অ্যাটাক প্রমাণিত হয়েছে। এই আসামিরা প্রকাশ্যে গুলি করেছিলেন, সেটাও প্রমাণিত।

রায়ে বলা হয়, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্মকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম আন্দোলনে হতাহত দমনে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু অন্য ৫ পুলিশ সদস্য তাদের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের মাত্রা অনুযায়ী দায়ী।

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় রায় : ২০ জানুয়ারি মামলাটির রায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান রায়ের জন্য ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ ঠিক করে দেন। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় রায় এটি। রায়ের পুরো কর্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। গত বছরের ১৭ নভেম্বর প্রথম রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলায় গ্রেফতার চার আসামি আরশাদ, সুজন, ইমন ও নাসিরুলকে রায়ের সময় আদালতে হাজির করা হয়। বাকি চার আসামিকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচারকাজ চলে। বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে গ্রেফতার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ১১টা ৪৭ মিনিটে বিচারকরা এজলাসে ওঠেন এবং ১১টা ৫০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায় পড়া শুরু করেন। রায় ঘোষণার সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামীমসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবুল হোসেন, সিফাত হোসেন ও সাদ্দাম হোসেন অভি। এছাড়া রায় ঘোষণার সময় শহীদদের পরিবারের সদস্য, বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা উপলক্ষ্যে ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।

রায়ে প্রসিকিউশনের অসন্তোষ : রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসাবে ঢাকা মহানগরীর চানখাঁরপুল এলাকায় বাংলাদেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা যখন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য অগ্রসর হচ্ছিল, সেই সময় পুলিশ ওই জায়গায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৬ জনকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে শাহরিয়ার খান আনাস, জুনায়েদসহ ৬ জন রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছিল। কমান্ড রেসপন্সিবিলিটিতে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনের শাস্তি হয়েছে আগে। বাকি অংশে যারা গ্রাউন্ডে কাজ করেছিলেন, তাদের বিচারের জন্য আজ মামলাটি ছিল। সেই মামলায় আজ আদালত বলেছেন, এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হয়েছে। তারা ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি করেছেন, সেটা প্রমাণিত হয়েছে।তাজুল বলেন, ‘এসি ইমরুল, ইনস্পেকটর আরশাদ এবং বাকি তিন কনস্টেবল, যারা সরাসরি ফিল্ডে থেকে গুলিবর্ষণ করে, যাদের গুলি করতে ভিডিওতে দেখা গেছে। যাদের নামে অস্ত্র ইস্যু ছিল না, অথচ তারা অন্যদের রাইফেল নিয়ে গুলি করেছেন, তাদের কম সাজা দেওয়া হয়েছে। একজনকে ৬ বছর, একজন ৪ বছর, বাকি তিন কনস্টেবলকে ৩ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আদালতে যখন তাদের অফেন্স, ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি, ওয়াইড স্প্রেড ও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক এবং এই আসামিরা প্রকাশ্যে গুলি করেছিলেন-তা প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও তাদের যে সাজা দেওয়া হয়েছে, তা ন্যায়সংগত হয়নি। যদিও আদালতের আদেশ সবার ওপরেই শিরোধার্য, আমাদের মানতে হবে। যেহেতু একটা আপিলেট ফোরাম আছে, সুপ্রিমকোর্টে এই সাজার বিরুদ্ধে, কম সাজা যেটা দেওয়া হয়েছে, সেই অংশটুকুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপিল করব। পুরো রায় পাওয়ার পর আরও পর্যালোচনা করে প্রসিকিউশন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।

প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, ‘যারা সরাসরি গুলি করেছে, তাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর সাজা অল্প হওয়াটা, এটা ন্যায়বিচারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে আমরা মনে করছি। এ কারণে আমরা মনে করছি, আপিল করা প্রয়োজন। কিন্তু বাকি তিনজনকে যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা যথার্থ হয়েছে বলে মনে করি। আগে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেটাও যথার্থ বলে আমরা মনে করি।যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়নি, তাদের মৃত্যুদণ্ড চাইবেন কি না-প্রশ্ন করা হলে তাজুল বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ডই চাইব। কারণ, তারা এই অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, এটা কোনো সাধারণ মার্ডার নয়। আমরা বারবার যেটা বলার চেষ্টা করছি, মার্ডারের ক্ষেত্রে প্রমাণ করতে হবে কার গুলিতে কে মারা গেছে। কিন্তু ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটিতে হাজার হাজার রাউন্ড বুলেট নিক্ষিপ্ত হয়েছে। শত শত, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছে, ১৪০০ শহীদ হয়েছে। সেখানে কার গুলিতে কে মারা গেছে, সেটা প্রমাণ করা ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটির ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই। সেটা প্রমাণিত না হওয়ার কারণে কেউ সাজা থেকে রেহাই পেতে পারে না। এটা হচ্ছে আইনের বিধান, ইন্টারন্যাশনালি রিকগনাইজড প্রিন্সিপাল। সুতরাং সেই জায়গায় সেন্টেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, সেটাকে আমরা মনে করছি এটা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে যাচ্ছে না। এ কারণেই আমরা আপিল করব। সুজন হোসেনের গুলি করার দৃশ্য দেখা যাওয়ার বিষয়ে তাজুল বলেন, আদালত এটা বলেছেন যে, সে গুলি করেছে, সে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে, উল্লাস করেছে-সবকিছুই কিন্তু আদালত বলেছেন, তা প্রসিকিউশনও প্রমাণ করতে পেরেছে। এই ব্যাপারে কিন্তু অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই। প্রসিকিউশন সাকসেসফুলি এই আসামিদের ইনভলভমেন্ট, তারা কে কী করেছে-সবকিছু প্রমাণ করতে পেরেছে।

তাজুল ইসলাম বলেন, আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, অনেকেই সেখানে গুলি চালিয়েছে, অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। এটি পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ওইদিন চানখাঁরপুলে ৪০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। অবজারভেশন যেটা আছে, আমরা দেখে বলব। কারণ, হাজার হাজার পুলিশ ছিল, সবার বিরুদ্ধেই তো আর মামলা করা যাবে না। ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটিতে আমরা দেখেছি যে সবচেয়ে যারা বেশি এট্রোসাস কাজ করেছে, যারা কমান্ড দিয়েছে, অনেকে নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে ছিল। তারা হয়তো এই গ্রুপের মেম্বার ছিল, কিন্তু সবাইকে মামলায় আসামি করা হয়তো যুক্তিসংগত না, এটা মনে করেছে প্রসিকিউশন। শুধু যারা সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধেই ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছিল, তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছিল।

শহীদদের পরিবারের প্রতিক্রিয়া : রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ বলেন, এ রায়ে শহীদপরিবার আহত হয়েছি। কেননা ঘাতকের সরাসরি গুলির ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও তাকে নামমাত্র সীমিত সাজা দেওয়া হয়েছে। রায়ে আমরা অসন্তোষ প্রকাশ করছি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এ সাজার ফলে নিহতদের পরিবার বরং নিরাপত্তাহীনতাই ভুগবে। অপরদিকে আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি বলেন, গুলি করা ব্যক্তিকে নামমাত্র সাজা দিয়ে শহীদদের অপমান করা হয়েছে। আমার আনাসকে যে সরাসরি গুলি করল, তার মাত্র তিন বছরের শাস্তি, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

শহীদ জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল বলেন, ‘আজকের এই রায় শুনে আমি খুব বিরক্ত হয়েছি। আমি কী বলব, আমার তো বলার কোনো ভাষা নেই। তিনি নিজের সন্তানের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ক্লাস সেভেনের একটা বাচ্চা, তার মাথায় গুলি করে, গুলি বের হয়ে গেছে; সেই মামলায় এটা কী রায়?’ এ রায়ে সন্তুষ্ট নন জানিয়ে তিনি বলেন, আমার একমাত্র ছেলে, এই ছেলের হত্যার রায়টা আমি শুনে সন্তুষ্ট নই। মনের মধ্যে অনেক যন্ত্রণা। এ রায় শুনে আজ ওর মায়ের কী অবস্থা হবে, আমি জানি না। রাতে আমরা ঘুমাতে পারি না।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। তাতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক শহীদ হন; আহত হন অনেকে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয়। নথিপত্র পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে তা দাখিল করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে সেদিন ট্রাইব্যুনাল হাবিবুর রহমানসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, চানখাঁরপুল এলাকায় আসামিরা নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করে। ৯০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে ৭৯ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এছাড়া ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি রিপোর্ট, ২টি অডিও, বই ও রিপোর্ট ১১টি এবং ৬টি ডেথ সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই ওই আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ২৬ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দেন।

Top