নির্বাচিত সরকারই সমস্যা সমাধান করতে পারে - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচিত সরকারই সমস্যা সমাধান করতে পারে


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন:বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মূল সমস্যাকে সমাধান করতে হলে অবশ্যই নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন।এ জনসভায় মানুষের ঢল নামে। তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে মঞ্চে ডেকে নেন একজন করে ভ্যানচালক, পোশাককর্মী, ছাত্রী ও গৃহিণীকে। তাদের কাছে ওই এলাকার সমস্যার কথা শোনেন। দেন সমাধানের প্রতিশ্রুতি। নির্বাচিত সরকারই মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারবে। শুক্রবার রাতে ঢাকা-১৭ আসনের ভাষানটেক বিআরপি মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ জনসভায় মানুষের ঢল নামে। তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে মঞ্চে ডেকে নেন একজন করে ভ্যানচালক, পোশাককর্মী, ছাত্রী ও গৃহিণীকে। তাদের কাছে ওই এলাকার সমস্যার কথা শোনেন। দেন সমাধানের প্রতিশ্রুতি।

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ একটি ভালো পরিবর্তন চায়। তারা চায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা হোক, নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক এবং শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষার সুযোগ পাক। দেশের বহু মানুষ কর্মসংস্থানের অভাবে বিদেশে গেলেও দক্ষতার অভাবে তারা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পায় না। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগণকে দক্ষ করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আমরা তাদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ করে তুলব, যেন তারা এ দেশেই কর্মসংস্থান পায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রত্যেক মা ইনশাআল্লাহ ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। ৪ কোটি পরিবারকে এর মাধ্যমে ২০০০-২৫০০ টাকা দেব। তাই ফ্যামিলি কার্ড পেতে হলে সারা দেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। এই এলাকায় আমি ছোট থেকে বড় হয়েছি। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনসহ সব সমস্যার সমাধান করব।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ক্রীড়াব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই, যেন তারা প্রফেশনাল খেলোয়াড় হতে পারে। খেলা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।’ দেশের উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে যেন এলাকাবাসী তাদের সমস্যা তুলে ধরতে পারেন। শুধু সংসদে নয়, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি থাকতে হবে। সব জায়গায় জবাবদিহিতা থাকতে হবে। জানতে হবে, জনগণের সমস্যা কী।করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ-এই শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধানের শীষকে যতবার জনগণ নির্বাচিত করেছে, ততবার উন্নতি হয়েছে মানুষের। আমি ধানের শীষের পক্ষে প্রার্থী হিসাবে ভোট চাচ্ছি। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সারা দেশে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।

তিনি বলেন, আন্দোলন হয়েছে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন দেশ গঠন করতে হবে। বিগত স্বৈরাচারের কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছিল। এখন দেশ পুনর্গঠনে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। আমি, তুমি ও ডামির নির্বাচন যখন হয়েছে, তখন সমস্যা নিয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে যাওয়া যায়নি। যেতে পেরেছেন? পারেননি। এখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে।

সন্ধ্যায় জনসভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জুমার পর থেকে সর্বস্তরের মানুষ জড়ো হতে শুরু করে। মঞ্চ ও তার সামনে নেতাদের মাগরিবের নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জনসভাস্থল। তিনিও হাত নেড়ে উপস্থিত জনসাধারণের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান।

ঢাকা-১৭ এই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোটে লড়ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ভাষানটেকে বসবাস করেন এবং ওই এলাকার ভোটার ভ্যানচালক জুয়েল, পোশাককর্মী লিলি, ছাত্রী হেনা আক্তার, গৃহিণী নাসিমা আক্তারকে মঞ্চে ডেকে নেন। ভাষানটেক এলাকার প্রধান সমস্যা কী কী আছে তা জানতে চান। জুয়েল বলেন, ভাষানটেকের প্রধান সমস্যা হচ্ছে বসবাস উপযোগী বাসস্থান নেই। তিনি পুনর্বাসন চান। বিএনপি জয়ী হলে এবং সরকার গঠন করতে পারলে ভাষানটেকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থার দাবি জানান। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বস্তিবাসীর পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেন।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমিও এই নির্বাচনি এলাকায় বাস করি। এবার আল্লাহ একটা সুযোগ দিয়েছেন যাকে ভোট দেব মেহেরবানি হলে তিনিই এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।’ তিনি বলেন, এখন যারা নির্বাচন করছেন একমাত্র বিএনপি ছাড়া কারও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই।

জামায়াতের একজন প্রার্থীর কথা ইঙ্গিত করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি ঢাকার একটি আসনেও বিজয়ী হবে না-যিনি এ কথা বলেছেন, তিনি কি আল্লাহ থেকে হুকুম পেয়েছেন? কিন্তু তার দলই কোনোদিন ঢাকায় কোনো আসনে জয়ী হননি। এই দম্ভের কারণেই তাদের পতন হবে।’

ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. কাদির মাহমুদের সভাপতিত্বে জনসভা সঞ্চালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম। আরও বক্তৃতা করেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম, যুগ্ম সমন্বয়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নাজিম উদ্দিন আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব হাজি মোস্তফা জামান, ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন, বিআরবি মন্দিরের সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র সাহা, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ উদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লা, ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের সভাপতি শাহ আলম রাজা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জগলুল হাসান প্রমুখ।

Top