গ্যাস না অ্যাংজাইটি? বুকের ব্যথার ফারাক বুঝবেন যেভাবে
ডা.মুন্সী মুবিনুল হক:হঠাৎ বুক ধড়ফড়, চাপ বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অনেকেই একে গ্যাসজনিত সমস্যা মনে করেন।তবে চিকিৎসকদের মতে,একই ধরনের লক্ষণ অ্যাংজাইটির ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে।অনেক সময় শরীরের সাধারণ কিছু উপসর্গকে আমরা হালকাভাবে নিই।কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে এই অবহেলা বিপজ্জনক হতে পারে।ভুল বুঝে নিজে নিজে ওষুধ খেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
গ্যাসজনিত সমস্যার লক্ষণ
বিশেষজ্ঞরা জানান, গ্যাস বা বদহজম হলে সাধারণত পেট ফোলা ও অস্বস্তি, ঢেকুর ওঠা, পেটে ক্র্যাম্পিং বা ব্যথা, খাওয়ার পর সমস্যা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। এ ধরনের সমস্যায় অ্যান্টাসিড বা সাধারণ ঘরোয়া উপায়েই অনেক সময় আরাম পাওয়া যায়।
অ্যাংজাইটির লক্ষণ কী?
অন্যদিকে মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা হঠাৎ ভয়ের কারণে অ্যাংজাইটি হলে বুক ধড়ফড় করা, বুক চেপে ধরার মতো অনুভূতি, শ্বাস নিতে কষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, হাত-পা কাঁপা, মাথা হালকা লাগা বা ঘোরাভাব দেখা দিতে পারে।এসব উপসর্গের সঙ্গে খাবারের সরাসরি সম্পর্ক থাকে না এবং গ্যাসের ওষুধে সাধারণত আরাম মেলে না।কেন গ্যাস আর অ্যাংজাইটির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন?চিকিৎসকদের মতে, এই দুই সমস্যার কিছু লক্ষণ একে অপরের সঙ্গে মিলে যায়। গ্যাস জমলে বুকের মাঝখানে চাপ বা ভারী ভাব হতে পারে, যা অ্যাংজাইটির সময়ও অনুভূত হয়। আবার পেট ফুলে গেলে শ্বাস নিতে অস্বস্তি হতে পারে, আর অ্যাংজাইটির ক্ষেত্রে দ্রুত শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা একই ধরনের অনুভূতি তৈরি করে।
এ ছাড়া গ্যাস ও অ্যাংজাইটি, দুটো ক্ষেত্রেই হঠাৎ করে অস্বস্তি শুরু হতে পারে। এই আকস্মিকতাই অনেক সময় বিভ্রান্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আরও একটি বিষয় হলো, উভয় সমস্যার কিছু লক্ষণ হার্টের সমস্যার মতোও মনে হতে পারে, ফলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানান, যদি বুকের ব্যথা ১৫-২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়, ব্যথা বাম হাতে বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে, সঙ্গে বমি, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।সাধারণভাবে খাওয়ার পর পেট ভারী লাগা বা অম্বল থাকলে তা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।আর হঠাৎ ভয়, অস্থিরতা ও বুক ধড়ফড়ের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে অ্যাংজাইটির সম্ভাবনাই বেশি। তবে সন্দেহ থাকলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।