জামায়াতের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেলে বড় ধরনের রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি, ৫ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে ছয়জন প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের আহবান টিআইবির সৈয়দা রেজওয়ানা ও ড. খলিলুরের গ্রেপ্তারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভের ডাক পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বদলি সংবিধানের অজুহাত দিয়ে সরকার জুলাইয়ের অঙ্গীকার ভঙ্গ করছে সরকারি কর্মচারীদের অফিসের সময় নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি ৭৩টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ২৫ কোটি টাকার ঋণ

জামায়াতের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নির্বাচনি ঐক্য থেকে বেরিয়ে গেছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই ঘোষণা দেন।
এ সময় জামায়াত ইসলামীকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি। তার অভিযোগের জবাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে জামায়াতে ইসলামী।শুক্রবার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আসন সমঝোতা,রাজনৈতিক আলোচনা কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষকেই অসম্মান বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি; বরং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা,বাস্তবতা ও সম্মান বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান,মনোনয়ন দাখিলের পরও কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি থাকায় পর্যায়ক্রমে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এ লক্ষ্যে লিয়াজোঁ কমিটি মাঠের বাস্তবতা,দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি,প্রার্থীর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা,প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অবস্থানসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে একাধিক জরিপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।এ প্রক্রিয়ায় আট থেকে দশটি জরিপ বিশ্লেষণ করা হয়।অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন,কিছু আসন এক দফায় ঘোষণা করা হলেও কয়েকটি বিষয়ে মতভিন্নতা থাকায় সময় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে। গত কয়েক দিনে দীর্ঘ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে।তিনি বলেন,আসন বণ্টন ছিল সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ফল,কাউকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।

জামায়াতের বিরুদ্ধে শরিয়া আইন চালুর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,বিষয়টি বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও কূটনৈতিক প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে দলের আমির স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই দেশ পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে কোনো দ্ব্যর্থতা নেই।ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জোট ছিল না; বরং সংস্কার দাবিকে সামনে রেখে আটটি আন্দোলনরত দলের একটি নির্বাচনি ঐক্য প্রক্রিয়া ছিল। এখানে কোনো আহ্বায়ক বা স্থায়ী কাঠামো ছিল না, সভাপতিত্ব ও বক্তব্যও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে হয়েছে; যা একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ।

ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ‘অসম্মানজনক’ আচরণের অভিযোগের বিষয়ে জুবায়ের বলেন,সংশ্লিষ্ট নেতার অসুস্থতা ও ভুলে যাওয়ার কারণে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়নি।এতে যে কষ্ট হয়েছে,সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।মানুষ হিসেবে এ ধরনের ভুল হতে পারে।এর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি।একে অবজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে দাঁড়ালেও আলোচনার পথ এখনো খোলা আছে বলে মনে করে জামায়াত। জুবায়ের বলেন,রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই।মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের এখনো সময় বাকি।আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব যাতে ইসলামী দলগুলো এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকে। লিয়াজোঁ কমিটি ও শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন,এখন পর্যন্ত ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।আমরা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেব।সামনে বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Top