আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন:ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইয়ার ইয়াবস বলেছেন, ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে হওয়া জরুরি। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আগামী নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ হচ্ছে, তা দেখতে একেবারে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ মিশন। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে দুই মাস বাংলাদেশে কাজ করবেন ২০০ পর্যবেক্ষক। রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ২০০ পর্যবেক্ষকের মধ্যে ঢাকাভিত্তিক ১১ জন বিশ্লেষক নিয়ে একটি কোর টিম হবে। ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি এবং ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক থাকবেন। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মিশনের সদস্যরা রোববার ঢাকায় পৌঁছেছেন। স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক টিমকে ভোটের ঠিক আগে মোতায়েন করা হবে। ভোটের কাছাকাছি সময়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদলও মিশনের সঙ্গে যুক্ত হবে। ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
ইয়ার ইয়াবস বলেন, নির্বাচনের দুই দিন পর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে আমরা প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করব। প্রায় দুই মাস পর আমি আবার বাংলাদেশে ফিরে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেব। সেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশও থাকবে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানো হলো। এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রক্রিয়ার প্রতি ইইউর দৃঢ় ও নীতিগত অঙ্গীকারের প্রমাণ। আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ডিসেম্বরের শেষদিকে।অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে ইইউ কী বোঝাতে চায়-এমন এক প্রশ্নের জবাবে ইয়ার ইয়াবস বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে নির্বাচন ইইউর প্রত্যাশা। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে পুরুষ, নারী, সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সামাজিক সব গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কত শতাংশ ভোটার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, সেটিও একটি বড় ব্যাপার।
নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় ভারসাম্য আনতে হবে।আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করে ইয়ার ইয়াবস বলেন, নির্বাচন কতটা জাতীয় আইন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন করবে কমিশন। আমরা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করব আইনি কাঠামো, নির্বাচন পরিচালনাব্যবস্থা, নির্বাচনি পরিবেশ ও প্রার্থীদের আচরণ। পাশাপাশি ভোটার তালিকার প্রতি আস্থা, নির্বাচনি বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের পরিসর এবং পুরো প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র মূল্যায়ন করা হবে। গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত আলোচনা আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করব।তিনি বলেন, এই নির্বাচন ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব ভোটার ও প্রার্থীর জন্যই জরুরি বিষয়-নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার করা।সংবাদ সম্মেলনে কানাডা, সুইজারল্যান্ড, ইতালিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের ঢাকায় নিযুক্ত মিশনপ্রধান ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।