জাল সনদে দিয়ে দিব্যি চাকরি চালিয়ে যাচ্ছেন অসংখ্য শিক্ষক
মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন:জাল সনদে দিয়ে দিব্যি চাকরি চালিয়ে যাচ্ছেন অসংখ্য শিক্ষক। রাজনৈতিক প্রভাবে বিভিন্ন সময়ে পার পেয়ে যান তারা। আবার কেউ ধরা পড়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত হন।পরে জাল সনদে চাকরি করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এবার নড়েচড়ে বসেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি সরাসরি পাঠানোর কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। আর এই নির্দেশনা না মানলে বা তথ্য গোপনে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে এনটিআরসিএর জাল সনদের খবর কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। সেপ্রেক্ষিতে জাল নিবন্ধন সনদ শনাক্তকরণের জন্য প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত পদে কর্মরত নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদগুলো যাচাই করা প্রয়োজন।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের আরো বলা হয়, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ-প্রধানসহ এমপিওভুক্ত সব শিক্ষকদের তথ্য। এমপিওভুক্ত শূন্যপদের তথ্য, প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বরের এমপিও শিট এবং এমপিও পদে কর্মরত নিবন্ধনধারী সব শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদগুলো সত্যায়িত করে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষরিত অগ্রায়ণপত্রসহ উল্লিখিত ঠিকানায় ডাকযোগে, কুরিয়ার বা বাহকের মাধ্যমে চিঠি পাওয়ার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে বিনা ব্যর্থতায় পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। চাওয়া তথ্য ও কাগজপত্র পাঠানো কোনো ধরনের ব্যত্যয় হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। ব্যত্যয় বলতে তথ্য গোপন করা, সনদপত্র টেম্পারিং করা, তথ্য দেয়া থেকে বিরত থাকা ইত্যাদিকে বোঝাবে।
ঠিকানা: চেয়ারম্যান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ), রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার (৪র্থ তলা), ৩৭/৩/এ, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।উল্লেখ্য, সারাদেশে প্রায় ৩২ হাজার এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখ। এর মধ্যে সাড়ে তিনলাখের কিছু বেশি শিক্ষক। তাদের একটা বড় অংশের এনটিআরসিএ সনদ রয়েছে।