খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল
প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা :গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে দলটির পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।এজন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন খালেদা জিয়া। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধীনে চিকিৎসা চলছে তার। লন্ডনে অবস্থানরত ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিমুহূর্তে খোঁজখবর নিচ্ছেন। সূত্র জানাচ্ছে, শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বিএনপির চেয়ারপারসনকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এক বিশেষ সভায় বিএনপির চেয়ারপারসনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে হাসপাতলে ছুটে যান দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশবাসী তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করছেন।
২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর তার নিউমোনিয়া দেখা দেয়। এর সঙ্গে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরোনো কিছু সমস্যা রয়েছে তার। চিকিৎসকরা বলছেন, পরিস্থিতি এমন-একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। শুক্রবার এমনই এক পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব জানান, খালেদা জিয়া ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায়ই আছেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে চিকিৎসা চলছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে আছেন। তার শারীরিক অবস্থা কিছু সংকটাপন্ন। দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক, আমেরিকার জন হপকিংস এবং লন্ডনের লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করছেন।
‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অবস্থা এখন নেই’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুক্রবার রাতে টানা আড়াই ঘণ্টা মেডিকেল বোর্ড সভা করেছে। কীভাবে চিকিৎসা করবেন, চিকিৎসার ধরন কী হবে, সে বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড মতামত দিয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু তার এখন যে শারীরিক অবস্থা, তাতে তাকে বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থা নেই। আল্লাহর অশেষ রহমতে শারীরিক অবস্থা যদি স্টেবল হয়, তখন চিন্তা করে দেখা হবে যে তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে কি না।
বিএনপির চেয়ারপারসনকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতিকাজ সেরে রাখা হয়েছে জানিয়ে দলটির মহাসচিব বলেন, বিদেশে নেওয়ার জন্য যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো রয়েছে, ভিসাসহ অন্যান্য যেসব দেশে যাওয়া সম্ভব হতে পারে, সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয় নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলো মোটামুটি কাজ এগিয়ে আছে। যদি প্রয়োজন হয় এবং দেখা যায় শি ইজ রেডি টু ফ্লাই, তখন তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের পরিবার ও একাধিক দলীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে লন্ডনের যে হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়েছিল, সেখানেই আবারও তাকে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলেও জানা গেছে।
বোর্ডের একজন চিকিৎসক বলেন, খালেদা জিয়ার হৃৎপিণ্ডের মাইট্রাল ভাল্ব শক্ত হয়ে গেছে, ফলে হৃৎপিণ্ড রক্ত পাম্প করে শরীরের অঙ্গে পাঠাতে পারছে না। পাম্প করার সময় রক্ত ভাল্ব দিয়ে লিক করে শরীরে থেকে যাচ্ছে, যা থেকে ওনার ডানদিকের হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় এক জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যে পরিস্থিতিতে সংক্রমণের বিরুদ্ধে ওনার শরীর অত্যধিক ও ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এর বাইরে তীব্র অগ্ন্যাশয় প্রদাহে আক্রান্ত হওয়ায় তার অবস্থা জটিল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন। তবে শরীর ক্রিয়াশীল রয়েছে। হাত-পা কিছুটা নাড়াচাড়া করতে পারছেন। দু-একটি কথাও বলছেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে খালেদা জিয়াকে আবারও বিদেশে নেওয়া হতে পারে। পরিবার ও দল সেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। এছাড়া সোমবার চীনের একটি চিকিৎসক প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেবেন বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে।
হাসপাতালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা : সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়-এমন খবর সামনে আসতেই শুক্রবার রাত থেকে হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন দলটির নেতাকর্মীরা। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান। শনিবার বিকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হাসপাতালে দলীয় চেয়ারপারসনের খোঁজ নেন। এদিন বিকালে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এভারকেয়ারে যান। পরে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ফ্লাই করার উপযোগী নয়। চিকিৎসকরা প্রথম বিকল্প হিসাবে সিঙ্গাপুর এবং পরবর্তী সময়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশকে বিবেচনায় রেখেছেন। শুক্রবারের মতোই খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও তাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি বা অবনতি কোনোটিই হয়নি। দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন চিকিৎসকরা।
শনিবার সকাল সোয়া ১০টায় হাসপাতালে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এনসিপির নেতারা। ডা. তাসনিম জারা বলেন, বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসা চলছে। তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল। তবে তিনি সজ্ঞান ও সজাগ আছেন। ডাক্তার ও নার্সদের নির্দেশনা ফলো করতে পারছেন। সবার কাছে তার জন্য দোয়ার আবেদন থাকবে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, খালেদা জিয়া চিকিৎসা করাতে গিয়েও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। আমাদের চাওয়া, তিনি যেন হাসিনার ফাঁসি দেখতে পারেন-সেই দোয়া করবেন।
উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দেশবাসী : হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটময়-এমন সংবাদে রাজধানীর এভারকেয়ারের সামনে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ভিড় করেন দলটির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠিত মানুষ দূরদূরান্ত থেকে খোঁজ নিতে ছুটে আসেন। এদিকে দেশজুড়ে তার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন মসজিদে বিএনপির উদ্যোগে দোয়া-মাহফিল হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমেও অনেকে তার দীর্ঘ ও আপসহীন রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে সুস্থতা কামনা করছেন। এর আগে শুক্রবার সারা দেশে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে বিএনপি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভারসিরোসিস, কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জানুয়ারি ছেলে তারেক রহমানের বাসায় লন্ডনের ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে ৬ মে দেশে ফেরেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের আরেক চিকিৎসক জানান, তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসক টিম যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিশেষজ্ঞ রোগবিশারদদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ রেখে তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিচ্ছেন। তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা সমন্বিত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডন কিংবা সিঙ্গাপুর নিতে আগ্রহী। চীনের তরফ থেকেও তাকে সেদেশে নেওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে। পরিবার ও দলের তরফ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কাতার ও সিঙ্গাপুরে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের ওপর। শিগ্গিরই তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
এদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় সব মানুষই উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠিত এবং অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। এতে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা অত্যন্ত বিব্রতবোধ করছেন। আপনারা কেউ দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না।
এদিকে শনিবার রাত ১০টার দিকে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, গত তিন দিন ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা একই রকম আছে। তাকে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তিনি তা গ্রহণ করতে পারছেন।
জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা এখানে (হাসপাতালে) করা হয়েছে। বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও চীনের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান। এ ছাড়া তারেক রহমানও সার্বক্ষণিক চিকিৎসার খোঁজ রাখছেন।
ডা. জাহিদ আরও জানান, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিবেচনা করে মেডিকেল বোর্ড অনুমতি দিলে তাকে বিদেশে নেওয়া হতে পারে। যখন এটি হবে তখন জানানো হবে।
দ্রুত আরোগ্য কামনা রাষ্ট্রপতির : বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। শনিবার রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানান। বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মহান আল্লাহর কাছে তার সুস্থতা এবং একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করি।’ এছাড়া শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এক বিশেষ সভায় বিএনপির চেয়ারপারসনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
এদিকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে অবহিত হন।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে খালেদা জিয়াকে ‘লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা’ : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন শনিবার ফেসবুক পোস্টে জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে পরিবারের। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কাতার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি লেখেন, আপসহীন নেত্রীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাকে লন্ডনে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরিকল্পনা করছে জিয়াপরিবার। এ বছরেই লন্ডনের যে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অধীনে চার মাস থেকে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন, তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী।’ এজন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।