প্রায় ৪২.৯ শতাংশ বিষন্নতায় ভুগছেন ! ৭১.০৭ শতাংশ সাংবাদিক এই পেশা ছেড়ে দিতে চান - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রায় ৪২.৯ শতাংশ বিষন্নতায় ভুগছেন ! ৭১.০৭ শতাংশ সাংবাদিক এই পেশা ছেড়ে দিতে চান


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:একটা সময় তরুণ-তরুণীদের স্বপ্নের পেশা ছিল সাংবাদিকতা। সাহসী ও চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকেই বেছে নিতেন তারা। পড়াশোনা শেষে যারা এই পেশায় এসেছেন, তাদের অনেকেই এই পেশা ছেড়েছেন, আর যারা আছেন, তাদের কেউ কেউ ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন। সুযোগ পেলেই অন্য কোনও চাকরিতে চলে যাচ্ছেন তারা।বাংলাদেশের ৪২.০৯ শতাংশ সাংবাদিকই তার পেশা নিয়ে বিষণ্নতায় ভুগছেন। আর ৭১.০৭ শতাংশ সাংবাদিক এ পেশা ছেড়ে দিতে চান।সম্প্রতি দেশের সংবাদপত্র, স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সম্প্রতি ‘অ্যান ইনভেস্টিগেশন ইনটু রিস্ক টু মেন্টাল হেলথ অব বাংলাদেশি জার্নালিস্টস’ শীর্ষক এ গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষক দলে আরও ছিলেন একই বিভাগের শিক্ষক ড. সরকার বারবাক কারমাল ও সাবেক শিক্ষার্থী আপন দাস।

সাংবাদিকদের এমন বিষণ্নতা আর চাকরিবিমুখতার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চাকরির অনিশ্চয়তা। যার হার ৮৫ শতাংশ।এছাড়া অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে সময়মতো প্রমোশন না পাওয়া,কম বেতন এবং অত্যাধিক কাজের চাপ।প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ১৯১ জন সাংবাদিকের ওপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের ৭৯.১ শতাংশই নিজের পেশা নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। আর বিষণ্নতায় ভুগছেন ৪২.৯ শতাংশ সাংবাদিক। তাদের মধ্যে নারী ৪৮.৪৮ আর পুরুষ ৪১.৭৭ শতাংশ।গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সাব-এডিটর বা কপি এডিটরদের থেকে বাইরে কাজ করা রিপোর্টারদের মধ্যে বিষণ্নতা বেশি। তবে রিপোর্টার ও সাব-এডিটরের থেকে নিউজ এডিটর তুলনামূলকভাবে কম বিষণ্নতায় ভোগেন। এ হারে রিপোর্টার ৪৪.৩২, কপি এডিটর ৩৪ এবং নিউজ এডিটর ২৮.৫৭ শতাংশ।এ প্রসঙ্গে গবেষক দলের প্রধান আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সাংবাদিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ নিয়ে দেশে সচেতনতার মাত্রা খুবই কম। সাংবাদিকতা পেশা ও সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়ন প্রশ্নে কর্মক্ষেত্রে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অবশ্যই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সংসদে দেওয়া তথ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন দৈনিক পত্রিকা রয়েছে এক হাজার ২৪৮টি, এরমধ্যে ঢাকায় ৫০২টি এবং সারাদেশে ৭৪৬টি। টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে ৩২টি। এছাড়া সারাদেশে সাপ্তাহিক পত্রিকা রয়েছে এক হাজার ১৯২টি, মাসিক ৪১৪টি। এর বাইরে ২ হাজার ২১৭টি অনলাইন মিডিয়া রয়েছে। আরও আছে, অনলাইন পত্রিকা, অনলাইন টেলিভিশন ও রেডিও।

প্রায় ৪২.৯ শতাংশ সাংবাদিক তার পেশা নিয়ে কোনো না কোনো ভাবে বিষন্নতায় ভুগছেন। এছাড়াও ৭১.০৭ শতাংশ সাংবাদিক এই পেশা ছেড়ে দিতে চান।সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ -ইউল্যাব ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা সংস্থা আইজিআই গ্লোবালের একটি গবেষনায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে সংবাদপত্র, স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ১৯১ জন সাংবাদিক অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের ৭৯.১ শতাংশই নিজ পেশা নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তাঁদের মধ্যে নারী ৪৮.৪৮ আর পুরুষ ৪১.৭৭ শতাংশ। এই বিষণ্নতা এবং চাকরি অসন্তষ্ট’র সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চাকরির অনিশ্চয়তা। এই হার ৮৫ শতাংশ। অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—চাকরিতে সময়মতো পদন্নোতি না পাওয়া, কম বেতন এবং মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ। অনেক মেধাবীই এই পেশায় কিছুদিন কাজ করে ছেড়ে দিয়েছেন, এমন তথ্যও উঠে এসেছে গবেষণায়।এই গবেষনার নেতৃত্বে ছিলেন ইউল্যাবের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম। এছাড়াও গবেষক দলে আরো ছিলেন একই বিভাগের শিক্ষক ড. সরকার বারবাক কারমাল ও সাবেক শিক্ষার্থী আপন দাস।

মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া আলোকিত বার্তা বলেন, যে কোন পেশাতেই নিজের সেরাটুকু দিতে গেলে মানসিক চাপমুক্ত থাকাটা জরুরী। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মজার ব্যাপার হচ্ছে সারা পৃথিবীতেই সবচেয়ে বেশি চাপ নিয়ে যেসব পেশায় কাজ করতে হয় সাংবাদিকতা তার অন্যতম। আমাদের দেশে পেশাগত অন্যান্য চাপের (যেমন: নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা না থাকা, ডেডলাইনের চাপ ইত্যাদি) সঙ্গে আরও যুক্ত হয় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক চাপ (অনেকেই বলেন, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সহজে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়না)। তবে এ নিয়ে আমাদের দেশে সচেতনতা খুবই কম। সাংবাদিকদের পেশাগত চাপ ও সন্তুষ্টি নিয়ে তেমন কোন আলোচনাও চোখে পড়েনা। আমাদের কাছে মনে হয়েছে বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে, বিশেষতঃ এখন যখন আমাদের গণমাধ্যমগুলো একটা ক্রান্তিলগ্ন পার করছে।

গবেষণায় আরো উঠে আসে, কপি এডিটর কিংবা সাব-এডিটরের চেয়ে বাইরে কাজ করা রিপোর্টারদের মধ্যে বিষণ্নতা বেশি। এদিকে নিউজ এডিটর তুলনামূলকভাবে কম বিষণ্নতায় ভোগেন। এই হারে রিপোর্টার ৪৪.৩২, কপি এডিটর ৩৪ এবং নিউজ এডিটর ২৮.৫৭ শতাংশ।

এদিকে এই গবেষনা রেজাল্টের পরে আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলোর কি করা উচিত বলে মনে করেন এমন প্রশ্নে গবেষকদলের আরেক সদস্য একই বিভাগের শিক্ষক ড. সরকার বারবাক কারমাল জানান, ভালো সাংবাদিকতা যদি আমরা আশা করি সাংবাদিকদের কল্যানের দিকটিও দেখতে হবে। সাংবাদিকতা পেশা ও সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়ন প্রশ্নে কর্মক্ষেত্রে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অবশ্যই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমেই তাদের উচিত কর্মীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জরুরী পরিস্থিতিতে সহয়তা (যেমন: কর্তব্যকালীন দূর্ঘটনা) এবং আইনগত সহয়তার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা যা তাদের অনেকাংশে চাপমুক্ত হয়ে কাজ করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা জরুরী।

প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা সংস্থা আইজিআই গ্লোবালের ‘হ্যান্ডবুক অব রিসার্চ ইন ডিসক্রিমিনেশন, জেন্ডার ডিসপ্যারিটি, অ্যান্ড সেইফটি রিস্কস ইন জার্নালিজম’ শীর্ষক গ্রন্থে প্রকাশ হয়েছে।

মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া
ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব-এ সভাপতি।
বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়ন-এ এ কেন্দ্রীয় সভাপতি।
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটি-এ যুগ্ন মহাসচিব কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাকা।
বাংলাদেশ সাংবাদিক ও সংবাদপত্র ঐক্য পরিষদ-এ এর কেন্দ্রীয় কমিটি-এ সাধারন সম্পাদক।
বাংলাদেশ অনলাইন সাংবাদিক কল্যাণ ইউনিয়ন-এ এ এর কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ন সাধারন সম্পাদক।
বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ-এ বরিশাল বিভাগীয়-সাধারন সম্পাদক।
আলোকিত বার্তা-এ প্রকাশক ও সম্পাদক
বিডিবার্তা২৪.নিউজ-এ সম্পাদক

Top
%d bloggers like this: