আদায় করতে হবে দৈনিক ১৪শ কোটি টাকা,অর্থবছরের বাকি ৩ মাস - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি কোটি কোটি টাকা লোপাট চলছে দুদকে অভিয... বরিশালে ডাঃ তহুরার হাতে বলি হলো উদীয়মান উদ্যোক্তা নাজিয়া মাইশা পে ফিক্সেশনের পর তিন মাসের বকেয়া সমন্বয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ চাপের আহ্বান বাংলাদেশের ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত জীবনযাত্রায় চাপ,দেশজুড়ে বাজার-গণপরিবহণে অস্থিরতা নতুন রাস্তা কেটে নালা দ্বিগুণ ব্যয়ে ডাস্টবিন এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের চেষ্টা ,সারা দেশ,রাজধানীসহ কড়া নজরদারি পুলিশের ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে শুল্ক না কমিয়ে দাম বৃদ্ধির পথেই হাঁটল সরকার

আদায় করতে হবে দৈনিক ১৪শ কোটি টাকা,অর্থবছরের বাকি ৩ মাস


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া :রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। চলতি অর্থবছরে ৯ মাসে যা আদায় করার কথা ছিল তা থেকে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অবশিষ্ট ৩ মাসে আদায় করতে হবে আরও ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। এ হিসাবে দৈনিক কোষাগারে রাজস্ব জমা করতে হবে প্রায় ১৪শ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবতার নিরিখে এটি অর্জন করা খুবই কঠিন।এদিকে সূত্র জানায়, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে এমন সংশয় থাকলেও এবার সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয়ে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। অর্থাৎ মোট রাজস্ব আয় (এনবিআর, নন-এনবিআর ও করবহির্ভূত) থেকে কোনো অর্থ কাটছাঁট করা হয়নি। এক কথায় বলা যায়, সরকার ব্যয় কমালেও আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রেখেছে। সরকার মনে করছে, বাকি ৩ মাসে আয়ের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এজন্য এনবিআরের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপও আছে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ হিসাবে গত নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ২ লাখ ৪ হাজার ৮ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাকি তিন মাসে রাজস্ব আহরণ করতে হবে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। ওই হিসাবে দৈনিক কোষাগারে রাজস্ব জমা করতে হবে প্রায় ১৪শ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশাল অঙ্কের এ রাজস্ব আদায় কঠিন ও চ্যালেঞ্জ বটে। এরপরও সংশোধিত চলতি বাজেটে ১০ হাজার ১শ কোটি টাকা কাটছাঁট করলেও রাজস্ব খাতে হাত দেওয়া হয়নি। বিগত সময়ে আদায়ের গতি পর্যালোচনা করে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কোভিড মহামারির ধাক্কা সামাল দিয়ে ওঠার আগেই শুরু হয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। যার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব খাতে। এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু সরকার স্থানীয় বাজারে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ভোজ্যতেল আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশ, দেশের ভেতর উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ও খুচরা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে এ বছর ভোজ্যতেল থেকে রাজস্ব আহরণ কমবে।এছাড়া রাজস্ব আদায়ের আরও একটি বড় ক্ষেত্র হচ্ছে প্রকল্প। সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই-মার্চ এই নয় মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার ৪৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কম থাকায় এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ কমছে। এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কা ও বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যে অস্থিরতার কারণে কাক্সিক্ষত হারে রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা মহামারিসহ বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় করের আওতা বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ। এমন সময় করের বোঝা না চাপিয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে এনবিআর তথা সরকারের সবার আগে জোর দেওয়া উচিত কর ফাঁকি বন্ধের ওপর। করের আওতা বাড়ানো এবং সব টিআইএনধারীদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য করা যেতে পারে । তাহলে আয় বাড়তে পারে।সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, ‘সার্বিক দিক বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে রাজস্ব আহরণ খুব বেশি খারাপ হয়নি। যদিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অতীতে কোনো সময় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। তার মতে, রাজস্ব বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কার দরকার। এছাড়া রাজস্ব আহরণ জিডিপির তুলনায় অন্যান্য দেশের চেয়ে আমাদের কম। সরকারকে এখন এদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।’

সম্প্রতি চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। ওই বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে গত ২৭ এপ্রিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে দেখানো হয়, গত মার্চ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৮ কোটি টাকা। এটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা কম। সেখানে আরও বলা হয়, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মূসক আদায়ের হার ৮৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, কাস্টমস ৯০ দশমিক ১৩ শতাংশ ও আয়কর আদায়ের হার ৮৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। রাজস্ব আয়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অধিকতর সচেষ্ট হতে নির্দেশনা দেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব। পাশাপাশি এনবিআর সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানকে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বলা হয়।জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের বৈঠকের আগে রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈঠক করেছেন। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা কমানো যায় কিনা তা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। ওই বৈঠকে অর্থ বিভাগ গত আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) আদায়ের একটি বিশ্লেষণ প্রতিবেদন তুলে ধরে। এতে দেখানো হয়, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মোট রাজস্ব আহরণ কম হলেও আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি ‘এনবিআর রাজস্ব’ প্রথম আট মাসে প্রকৃত আদায় হয়েছে মূল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৫৩ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে একই সময় ছিল লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ শতাংশ। অপরদিকে নন-এনবিআর রাজস্ব আদায় হয় লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল আরও কম ২৩ শতাংশ এবং করবহির্ভূত রাজস্ব আহরণ হয় ৫১ শতাংশ এবং আগের অর্থবছরে একই সময় এই হার ছিল ৭৬ শতাংশ। রাজস্ব সংগ্রহের ধারা বিবেচনা করে মোট রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ বিভাগ। যদিও এনবিআর কোনো বছরেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে না। প্রতিবছরই সংশোধন করে কমাতে হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হয় না। গত অর্থবছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছিল। কিন্তু এবারই ব্যতিক্রম উদ্যোগ সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব খাতে কোনো কাটছাঁট করা হয়নি।

আরও পড়ুন...
Top