আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন,সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি কোটি কোটি টাকা লোপাট চলছে দুদকে অভিয... বরিশালে ডাঃ তহুরার হাতে বলি হলো উদীয়মান উদ্যোক্তা নাজিয়া মাইশা পে ফিক্সেশনের পর তিন মাসের বকেয়া সমন্বয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ চাপের আহ্বান বাংলাদেশের ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত জীবনযাত্রায় চাপ,দেশজুড়ে বাজার-গণপরিবহণে অস্থিরতা নতুন রাস্তা কেটে নালা দ্বিগুণ ব্যয়ে ডাস্টবিন এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের চেষ্টা ,সারা দেশ,রাজধানীসহ কড়া নজরদারি পুলিশের ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে শুল্ক না কমিয়ে দাম বৃদ্ধির পথেই হাঁটল সরকার

আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন,সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া :ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছ, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও (অনূদিত)’ – শেখ মুজিবুর রহমান।

ইতিহাসের মধ্যেও ঢুকে যায় ভাইরাস। তাই বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে ইতিহাসের নির্যাসটুকু তুলে ধরার এ প্রয়াস। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্যের মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেলে তা অবসানের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, লাহোরে অনুষ্ঠিত হয় আরটিসি সম্মেলন। সেই সম্মেলনে আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। এতে অবিভক্ত পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তার রোষানলের ফলশ্রুতিতে শেখ মুজিবসহ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ছয় দফা দাবির সমর্থনে ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে সমগ্র দেশ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রবল চাপের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করা হয়। জননেতা শেখ মুজিবুর রহমান, লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন, আহমেদ ফজলুর রহমান সিএসপি, রুহুল কুদ্দুস সিএপি, স্টুয়ার্ড মুজিবর রহমান, ক্যাপ্টেন শওকত আলী, ক্যাপ্টেন নুরুজ্জামানসহ ৩৪ জন রাজবন্দিকে সম্মানের সঙ্গে মুক্তি দেওয়া হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সার্জেন্ট জহুরুল হক নিহত হন। ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন জারি করেন ও পদত্যাগে বাধ্য হন। জেনারেল ইয়াহিয়া খান পাাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ছয় দফা আন্দোলনই স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল টার্নিং পয়েন্ট বলে বিবেচিত হয়।পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তদানীন্তন পাকিস্তান আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি + সাতটি মহিলা আসন = ১৬৭টি আসন লাভ করে। পক্ষান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানে ১৩৮ আসনের মধ্যে পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি মাত্র ৮১টি আসন পায়। আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি পার্টির সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির লিডার ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ডেপুটি লিডার নির্বাচিত করা হয়। ১৭ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮ + ১০টি মহিলা আসন মোট ২৯৮টি আসন পায়। অর্থাৎ মোট আসনের ৯৬ শতাংশ আসন পায়, যা বিশ্বের ভূমিধস বিজয় হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে। উল্লেখিত বিজয়ে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী এবং পিপিপি প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো দিশেহারা হয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করেন। প্রাদেশিক পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় আওয়ামী লীগ নেতা এম মনসুর আলীকে পূর্ব পাকিস্তান পার্লামেন্টারি পার্টির লিডার নির্বাচিত করা হয়। ’৭০-এর নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী এবং এম মনসুর আলী পূর্ব পাকিস্তানের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিবেচিত হতে থাকেন।ষড়যন্ত্র চলতে থাকার এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রেডিও পাকিস্তানে ৩ মার্চ আহুত সংসদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। ঢাকা স্টেডিয়ামে চলমানরত পাকিস্তান ও এমসিসি ক্রিকেট খেলা অকস্মাৎ বন্ধ হয়ে যায়। হাজার হাজার দর্শক, ছাত্র, জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ৩ মার্চ পল্টনের মহাসমাবেশে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়। এ সভায় আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিব অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বান জানান এবং জনগণের প্রতি খাজনা, ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।১৯৭১ সালের ৭ মার্চ পড়ন্ত বিকালে প্রায় দশ লাখ জনতার পদভারে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রকম্পিত হয়। স্বাধীনতার আন্দোলনের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দৃপ্ত পায়ে মঞ্চে উঠে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ কবিতাখানা পাঠ করলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। ১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা মূলত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই পরিচালিত হতে থাকে। তার ঐতিহাসিক ভাষণের পর ঢাকা তথা সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে রূপান্তরিত হয়।

ঢাকায় পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির লিডার ও আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের নির্দেশে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল টিক্কা খানের তত্ত্বাবধানে ও জেনারেল রাওফরমান আলীর নেতৃত্বে ২৫ মার্চ ঢাকায় অপারেশন সার্চ লাইট শুরু করা হয়। ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর হেডকোয়ার্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, তদানীন্তন ইকবাল হল প্রধান লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয়। একই সময়ে জেনারেল খাদিম হোসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনাসহ মোট ১০টি শহরে অপারেশন সার্চ লাইট শুরু করা হয়। হাজার হাজার নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালি ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবিদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাদের হৃদয়বিদারক ক্রন্দন ও আহাজারিতে ঢাকা তথা সমগ্র দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, যা ছিল বিশ্বের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত গণহত্যা। ২৬ মার্চ ০০:২০ মিনিটে (প্রথম প্রহরে) পাকিস্তান পার্লামেন্টের মেজরিটি পার্টির লিডার আওয়ামী লীগপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।পাকিস্তান আইএসপিআরের পাবলিক রিলেশনস অফিসার মেজর সালিক সিদ্দিকের ওয়্যারলেসে ঘোষণাটি শুনতে পাওয়া যায়। (সূত্র: উইটনেস অব স্যারেন্ডার। লেখক: সালিক সিদ্দিক)। রাত ১টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবন থেকে আওয়ামী লীগপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা থেকে রাওয়ালপিন্ডির লয়ালপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়। প্রখ্যাত সাংবাদিক সায়মন ড্রিংকসই প্রথম ২৫ মার্চের পরিকল্পিত গণহত্যার খবরটি ‘ওয়াশিংটন পোস্টের’ মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সামরিক কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণে কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিক ঢাকায় আসেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক ম্যাসকারেনহাস ১৯৭১ সালের ১৩ জুন ঢাকা থেকে লন্ডনে পালিয়ে গিয়ে ঢাকাসহ সমগ্র দেশের বর্বোরচিত গণহত্যার ভয়াবহ চিত্র ‘সানডে টাইমস’-এ তুলে ধরেন। উক্ত হৃদয়বিদারক রিপোর্টটি পাশ্চাত্য তথা সমগ্র বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয় এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ‘সানডে টাইম’-এর সম্পাদক হ্যারল্ড ইভ্যান্সকে বলেন, উক্ত রিপোর্টটি তার হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং তার ফলশ্রুতিতে ভারত সরকার সশস্ত্র হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ প্রবাসী সরকারে শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়। এম মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এএইচএম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে উল্লেখিত সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এক বিশেষ অধিবেশনে ১৯৭০ সালের নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের ১৬৯ সদস্য এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত ২৯৮ সদস্যের সমন্বয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়। এ অধিবেশনে ২৬ মার্চ এ বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ‘প্রক্লেমেশন অব ইনডিপেনডেন্স’ (স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র) অনুমোদন করা হয়, যা অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসাবে গণ্য করা হয়। এই সংবিধান ৪০৪ জন গণপরিষদ সদস্য কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়, যার মূলভিত্তি হলো- সাম্য, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। গণপরিষদের হুইপ ইউসুফ আলী ১৭ এপ্রিল ‘প্রক্লেমেশন অব ইনডিপেনডেন্স’ পাঠ করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান এমপি। মেহেরপুরে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় ‘মুজিব নগর’। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত জনপ্রতিরোধ শুরু হলেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়, উক্ত যুদ্ধে সহায়তাকারী বন্ধুপ্রতিম ভারত সরকার ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা এবং সমন্বয়ের ক্ষেত্রে প্রবাসী সরকারের ভূমিকা ছিল অনন্য। এ ‘মুজিবনগর সরকার’ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রথম গণতান্ত্রিক ও আইনানুগ সরকার। এমএজি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি এবং এমএ রবকে চিফ অব আর্মি স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়। সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয়। মুজিবনগর সরকারের মেয়াদকাল ছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত।

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের তাজা তপ্ত রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ নিয়াজীর নেতৃত্বে পাকিস্তানের ৯৩ হাজার সৈন্য অস্ত্রশস্ত্রসহ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জগজিৎ সিং অররা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপপ্রধান একে খন্দকারের উপস্থিতিতে বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষরিত হয়। এ দলিলের শিরোনাম ‘ইন্সট্রুমেন্ট অব স্যারেন্ডার’। ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, ‘বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বিজয়’ হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে/থাকবে।

আরও পড়ুন...
Top