বাংলাদেশে কেমন আছে শহিদ পরিবারগুলো,বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী
এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া :বাংলাদেশে কেমন আছে শহিদ পরিবারগুলো,সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী,বাংলাদেশ নামক এ ভূখণ্ডটির বয়স যখন অর্ধশতাব্দী, সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী,তখন ৩০ লাখ শহিদের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এ দেশে তাদের পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিকভাবে মূল্যায়ন রাষ্ট্রীয়ভাবে উপেক্ষিত বিগত ৫০ বছর ধরে। সব আয়োজন যেন তালিকাবদ্ধ গাজীদের জন্য, মুক্তিযুদ্ধের শহিদ পরিবারগুলোর জন্য কোথাও কেউ নেই, কিছু নেই। অথচ আমরা ৩০ লাখ শহিদের কথা বলে মাতম করি। বোঝাতে চাই কত দামে কেনা এই দেশ, এই স্বাধীনতা।আমি যখন প্রজন্ম ’৭১-কে সংগঠিত করার জন্য সারা দেশ ঘুরে বেড়িয়েছি, তখন দেখেছি কত সম্ভাবনাময় পরিবার এ দেশের স্বাধীনতার জন্য নিঃস্ব হয়ে গেছে উপার্জনক্ষম স্বজনকে হারিয়ে। স্বাধীনতার পর দেশের অল্পসংখ্যক খ্যাতিমান শহিদ পরিবার বাদ দিলে অধিকাংশ শহিদ পরিবারের সদস্যরা স্বজন হারানোর শোক করতে পারেনি, বেঁচে থাকার যুদ্ধ করছেন। অথচ এ রাষ্ট্রের জন্ম দিতে গিয়েই ৩০ লাখ শহিদ পরিবারের এই করুণ পরিণতি।দেখেছি, স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধা রিকশা চালান, শহিদের স্ত্রী ‘ঝি’-এর কাজ করেন। পৃথিবীতে এমন নজির হয়তো বিরল। ’৭১-এ তো রাজাকারও মারা গেছে। শুনেছেন কখনো কোনো রাজাকার রিকশা চালায়? মৃত রাজাকারের স্ত্রী ‘ঝি’-এর কাজ করে? দুঃখের বিষয়, সুবর্ণজয়ন্তীর এ দেশে রাষ্ট্রের খাতায় অখ্যাত শহিদের নাম পর্যন্ত লিপিবদ্ধ নেই। প্রশ্ন জাগে, তাদের আত্মাহুতির ফসলে কাদের গোলা স্ফীত হয়েছে গত ৫০ বছরে? একাত্তরের আগে যারা ছিল রাজপথের বাসিন্দা, স্বাধীন দেশে তারা আজ রাজপ্রাসাদের বাসিন্দা। আর যারা তখন ছিল রাজপ্রাসাদে, স্বাধীনতার জন্য সব হারিয়ে তারা আজ রাজপথে।
২.আমরা শহিদ পরিবারের সদস্যরা বহু বছর ধরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছি। বলতাম, মৃত্যুর আগে আমি যদি দুবার নিশ্বাস নিতে পারি, একজন মুসলমান হিসাবে প্রথম নিশ্বাসে কলেমা উচ্চারণ করতে চাই। আর শেষ নিশ্বাসে আমি ৩০ লাখ শহিদের হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে ও দেখে মরতে চাই। অবশেষে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব রক্ষচক্ষুকে উপেক্ষা করে আমাদের সেই দুরাশাটি পূরণ করেছেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার করেছেন।এ বিচার চলাকালে আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করলাম-আমাদের দেশ থেকে ১২০০ মাইল দূরে পাকিস্তানিরা ৪০-৪৫ বছর পরও বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামস, মুজাহিদদের (বিহারি) ভোলেনি। বরং আমাদের দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল এবং তাদের পার্লামেন্টে এ বিষয়ে নিন্দা প্রস্তাব এনেছিল।পক্ষান্তরে, মুক্তিযুদ্ধে অল্পসংখ্যক স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর বাদ দিলে তখনকার সাড়ে ৭ কোটি মানুষ শ্রেণি-পেশা-ধর্ম-বর্ণ-দল-মত-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শারীরিক-মানসিক ও আর্থিকভাবে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অথচ বিজয়ের পর দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বা প্রান্তিক মানুষের সেই অর্জন ছিনতাই হয়ে গেল সংখ্যালঘিষ্ঠ শহুরে কিছু সুবিধাবাদী মানুষের হাতে, যার ধারাবাহিকতা আজও বিদ্যমান। ভাবতে আরও অবাক লাগে, কীভাবে গত ৫০ বছরে চোখের সামনে ৩০ লাখ শহিদের জীবনের বিনিময়ে পাওয়া এ দেশটিতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ও আদর্শের ধারক-বাহক মানুষের সংখ্যা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের চেয়েও সংখ্যালঘু হয়ে গেল!
৩.বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল। প্রথমত, ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ১২০০ মাইল দূরে অবস্থিত দুই অংশ মিলে গঠিত একটি অবাস্তব রাষ্ট্র পাকিস্তানের নাগরিকরা একই ধর্মের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও জন্মলগ্ন থেকে আমরা পূর্বাংশের মানুষরা কখনো সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, সাম্য ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারিনি। যার চূড়ান্ত পরিণতি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। এ যুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানের তথাকথিত মুসলমান হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা মিলে পূর্ব পাকিস্তানের ৩০ লাখ বাঙালি মুসলমানকে হত্যা করে, যার উদাহরণ পৃথিবীতে নজিরবিহীন। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের অসারতা এখানেই। আর এ কারণেই আমরা বাঙালিরা অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করে ৩০ লাখ বাঙালির আত্মত্যাগ এবং লাখ লাখ মা-বোনের নির্যাতিত হওয়ার বিনিময়ে বিজয়ী হয়েছি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এটা সার্বজনীন ও চিরন্তন সত্য যে, রক্তের বা ধর্মের সম্পর্কে কখনো ঐক্য হয় না। ঐক্য হয় নীতি, আদর্শ ও চেতনার ভিত্তিতে। সেজন্য মধ্যপ্রাচ্যে অনেক মুসলিম দেশের উপস্থিতি আমরা দেখতে পাই।
দ্বিতীয়ত, নিরস্ত্র বাঙালি জাতির সর্বাত্মক জনযুদ্ধের মাধ্যমে মাত্র ৯ মাসে প্রশিক্ষিত ও নিয়মিত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়ী হওয়াও ছিল নজিরবিহীন। কারণ, অল্পকিছু স্বাধীনতাবিরোধী বাদ দিলে তখনকার সাড়ে ৭ কোটি মানুষ নারী-পুরুষ-ধর্ম-বর্ণ-পেশা নির্বিশেষে সবার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণই ছিল একটি ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধের ফসল-পরাজিত পাকিস্তানের বুকে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। একটি কথা যথাযথ সম্মান ও বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, ভারত মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের আশ্রয় দিয়ে, অস্ত্র দিয়ে, প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং সর্বোপরি ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর এই ১৩ দিন ভারতীয় সেনাবাহিনী আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মিত্র বাহিনী হিসাবে যোগ দিয়ে আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত (প্রভাবক হিসাবে) করেছিল নিঃসন্দেহে। সে জন্য ভারতের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা। কিন্তু দিনশেষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সাড়ে ৭ কোটি মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামেরই ফসল, কারও দান নয়। এটি ছিল একটি ন্যায়সঙ্গত কাজে দুটি প্রতিবেশী দেশের পরস্পরের প্রতি নৈতিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা।আমাদের মুক্তিযুদ্ধের তৃতীয় অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, মাত্র ৯ মাসে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক অর্থাৎ ৩০ লাখ মানুষের শহিদ এবং লাখ লাখ মা-বোনের নির্যাতিত হওয়া। নদীমাতৃক বাংলাদেশের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আমাদের সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে গেরিলাযুদ্ধে অনভ্যস্ত বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদররা পেরে উঠছিল না। পাকবাহিনী বুঝে গিয়েছিল, কিছু স্বাধীনতা বিরোধিতাকারী বিশ্বাসঘাতক ছাড়া এই ভূখণ্ডের সাড়ে ৭ কোটি মানুষ এ যুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তারাই মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা। তাই যুদ্ধজয়ের কৌশল হিসাবেই পাকবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়হীন ও প্রশ্রয়হীন করার জন্য নির্বিচারে গণহত্যা চালায়, মাত্র ৯ মাসে হত্যা করে ৩০ লাখ বাঙালিকে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা।তাই বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর এ সময়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য নিঃস্ব ৩০ লাখ শহিদ পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর মর্মবেদনার সঙ্গে বলতে চাই-পাকিস্তানিরা আজও বাংলাদেশে তাদের দোসর রাজাকার-আলবদরদের ভোলেনি। অথচ আমাদের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারীরা ৩০ লাখ মহান শহিদ ও তাদের নিঃস্ব-রিক্ত পরিবারগুলোকে বিজয়ের অব্যবহিত পরেই অবলীলায় ভুলে গেল! এ সুযোগে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিতরা নিজেদের শক্তিশালী করেছে। অথচ ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন দেশটি ছিল কাদা-মাটির মতো। ’৭১-এর জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে ড. কুদরাত-ই-খোদার একমুখী শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মনের মাধুরী মিশিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়া সহজ ছিল। কিন্তু তা হয়নি। ইতিহাস সাক্ষী-চিন্তা-চেতনা-আদর্শ ও স্বার্থে বহুধাবিভক্ত একটি জাতির অর্জনগুলো কখনো টেকসই হয় না। তাই এদেশের আকাশ-বাতাস আজ উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতায় ভারী হয়ে যাচ্ছে। কথায় আছে, ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায় এবং ক্ষণে ক্ষণে বদলায়।’ কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের মানুষগুলো বদলে গেল, বদলাল না কেবল রাজাকাররা গত ৫০ বছরেও।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ শহিদ পরিবারগুলোর কাছে একটি অর্থহীন প্রতিষ্ঠান, জন্মলগ্ন থেকে যার কাজ হচ্ছে তালিকা করা ও গণহারে হালুয়া-রুটির ব্যবস্থা করা। ফলে দেশের কতিপয় সচিবসহ বহু মানুষ লোভী, বুভুক্ষু ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ এ প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ হওয়া উচিত ছিল দেশের আনাচে-কানাচে মুক্তিযুদ্ধের যে স্মৃতিচিহ্ন, বীরত্ব ও বধ্যভূমি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, সেখানে দৃশ্যমান অবকাঠামো গড়ে তুলে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাসমৃদ্ধ জাতি গঠন করা। তাহলে ‘জয় বাংলার’ দেশে ধর্মান্ধদের আস্ফালন দেখতে হতো না। শুনতে হতো না, নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম নেই। কারণ, দেশপ্রেম নিরন্তর চর্চার বিষয়। এটি কোনো ট্যাবলেট নয় যে খেলে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে। যে দেশে সর্বস্তরের শহিদ ও তাদের পরিবারগুলো প্রাপ্য সম্মান পায় না, সেদেশে দেশপ্রেমিক তৈরি হবে কিভাবে? ফলে বিপরীতটাই এখন বিদ্যমান।আমি মুক্তিযুদ্ধের শহিদ সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ’৭১-কে সংগঠিত করতে গিয়ে দেখেছি, নরপশু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা মাত্র ৯ মাসে আমাদের গোটা দেশকেই বধ্যভূমি বানিয়েছিল। অথচ স্বাধীনতা-উত্তর কেবল বৈষয়িক লাভালাভের জন্য ’৭১-এর ঐক্য ও আকাঙ্ক্ষাকে আমরা ধূলিসাৎ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা আজ কাস্টমাইজ করা এক বাণিজ্যিক পণ্যের নাম। যে দেশের মানুষ ’৫২, ’৬৯, ’৭০, ’৭১ ও ’৯০-এর আন্দোলনে জীবন দিয়ে জাতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক করে দিয়েছিল, জনগণের সেই আমানতের খিয়ানত করা হয়েছে।এক ভাষা, এক ধর্ম, এক জাতি, উর্বর মাটি, পরিশ্রমী ও শান্তিপ্রিয় মানুষ-এত সহজ শাসন করার মতো দেশ পৃথিবীতে কমই আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই ঈদে দেখেছি নামাজ শেষে মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে কোলাকুলি করেছে। সেই দেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতি দেখল ধর্মান্ধতা আর উগ্র সাম্প্রদায়িকতার তাণ্ডব।
৪.গত ১৫ এপ্রিল ছিল আমার বাবা-মা ও তিন ভাইয়ের ৫০তম শাহাদতবার্ষিকী। আজ থেকে অর্ধশতাব্দী আগে পাকিস্তান ‘মুর্দাবাদ’ বলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে বুকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে বর্বর পাকিস্তানিরা আমার বাবা-মা ও তিন ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। অলৌকিকভাবে বেঁচে যাই আমি ও আমার দুই বোন। খড়কুটোর মতো বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছি তিন ভাই-বোন। এর মধ্যে ছোট বোন (কাঁকন) ২০১২ সালে ক্যানসারে মারা যায়। ৮ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারে বেঁচে আছি মাত্র দুই ভাই-বোন মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গার হয়ে। এ জীবনে আমার কোনো উচ্চাভিলাষ নেই। এ জীবন আমি যাপন করি না। বয়ে বেড়াচ্ছি। আজ ৫০ বছর ধরে আমি ও আমার বড় বোন (কাজল) ৫টি লাশ কাঁধে নিয়ে চলছি, কারণ তাদের কোনো কবর হয়নি। আমাদের বাবা-মা অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন। মৃত্যুর আগ মুহূর্তেও বাবা চাশতের নামাজ পড়ছিলেন। তাই বলছি, আমরা মুসলমান ছিলাম, মুসলমান আছি। ’৭১ সালে আমরা মুসলমান হওয়ার জন্য যুদ্ধ করিনি। করেছি একটি শোষণ-বঞ্চনা-বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সর্বোপরি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য।আজ যারা উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতা ছড়াচ্ছেন, পাকিস্তানি ভাবধারায় বাংলাদেশকে গড়তে চাচ্ছেন, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদের পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে আমাদের আকুল আবেদন-ফিরিয়ে দিন আমার বাবা-মা-তিন ভাইকে আর ৩০ লাখ শহিদকে। আপনাদের মতো আমাদেরও ছিল ঘরভর্তি কোলাহলপূর্ণ পরিবার।