অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের নয়,বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনগণের - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তাকে বদলি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার ঢাল হিসেবে ‘ক্রসফায়ার’ বিপজ্জনক বার্তা ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের জেরে আইজিপির অপসারণ দাবি এনসিপির আইজিপির বক্তব্যের প্রতিবাদ জামায়াতের, ক্ষমা চাইতে বলল শিবির নামে পার্থক্য, চরিত্রে এক বিএনপি ও আওয়ামী লীগ বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছেই টিআইবিসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নিন্দা প্রত্যাহার দাবি,আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব... ৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার স্থানীয় সরকারে অবিশ্বাস্য দুর্নীতি,আওয়ামী আমলের আমলনামা : তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কর অঞ্চল-১২ এর সাবেক উপ কর কমিশনার হাফিজুলের বি'রু'দ্ধে নিয়োগ জা'লিয়া'তির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের নয়,বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনগণের


আলোকিত বার্তা:জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশবাসীকে যা দিয়েছেন,তা নেয়ার শক্তি কারো নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন,বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনগণের। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের নয়।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মানিক মিয়া হলে গণফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তিনি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

ড. কামাল হোসেন বলেন,বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা,কারও একক পিতা নন। বঙ্গবন্ধু কোনো একক দলের নয়,তিনি সবার।এ দেশে এখন বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে তার আদর্শের উল্টো কাজ হচ্ছে। তিনি যে আদর্শ আমাদের মাঝে রেখে গেছেন তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু কোনোদিনও ভাবতে পারেননি স্বৈরশাসন থাকবে। উনি চেয়েছিলেন, এ দেশে গণতন্ত্র থাকবে, নির্ভেজাল গণতন্ত্র। নামকাওয়াস্তে গণতন্ত্র নয়।’বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে ড. কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সব সময় বলতেন দেশের মালিক জনগণ। তাই তিনি সংবিধানে লিখে দিয়েছিলেন দেশের মালিক জনগণ এবং এ দেশের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে। কিন্তু খুবই দুঃখজনক বিষয় হল দেশে নির্বাচন পদ্ধতিটাকে উল্টে দেয়া হয়েছে। টাকা-পয়সা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপপ্রয়োগের মধ্য দিয়ে এখন একটা রায় দিয়ে দেয়া হয়। মানুষ যাকে ভোট দিতে চায় না, সে সামনে এসে বলে, আমি নির্বাচিত, আমরা রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক।তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন। গণতন্ত্র মানে সব স্তরে জনগণ ক্ষমতার মালিক। যেখানে যেখানে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে- কেন্দ্রে, জেলায়, ইউনিয়নে, স্থানীয় পর্যায়ে। যিনিই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

ড. কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো, তাকে স্মরণ করা, তাকে জাতির পিতার ভূমিকায় রাখার অর্থই হল তিনি যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন তা যেন আমরা মনে রাখি, পালন করি। তার দেয়া সেই দায়িত্বকে পবিত্র মনে করে আমরা যেন কাজ করে যাই। যারা সত্যিকার অর্থেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, তারা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে না। তারা ব্যক্তি স্বার্থ গোছাতে কাজ করছে। এটা দেখে মেনে নেয়া যায় না। বঙ্গবন্ধু মেনে নেননি বলে তাকে জীবন দিতে হয়েছে। জনগণের স্বার্থ নিয়ে কোনোরকম আপস করেননি বলেই তাকে জীবন দিতে হলো।’

তিনি বলেন, ‌‘বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেটা ধরে রেখে আমরা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারি এবং গড়বো ইনশাআল্লাহ। আজকের দিনে সবচেয়ে বড় অপরাধ হল, বঙ্গবন্ধুর যে কাজটা করতে বলেছেন উল্টোটা করে তার নাম নেয়া। এই দেশে স্বৈরশাসন থাকবে, এটা তিনি কোনোদিনই ভাবতে পারেননি।ড. কামাল আরও বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলাম, ইয়াহিয়া খানই আপনাকে সার্টিফিকেট দিয়েছেন যে আপনি অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। বাঙালিকে কখনও কোনোদিন কেউ ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। এই অসম্ভবকে সম্ভব করে আপনি তাদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন। ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা দিয়েছেন আমাদের।’

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ, মোকাব্বির খান, অ্যাডভোকেট মহসীন রশীদ, সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

Top