সরকারি কর্মচারীরা ২০ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট চান - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রতিযোগীদের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ কঠিন শর্তে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার আ.লীগ ঠেকাতে জিরো টলারেন্স,হাসিনার ডিসেম্বর দেশে ফেরার ‘ফাঁকা আওয়াজ’ এক পরিবারের একাধিক সদস্য সারের ডিলার হতে পারবে না স্ত্রীকে দেনমোহর পাওয়ার জন্য তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর আগপর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না জ্বালানি তেলের প্রভাবে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া, অপরাধের বিচার এবং জবাবদিহির মধ্য দিয়ে কি ‘রিকনসিলিয়েশনের’ পথ তৈরি হবে? সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়ন সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ South Bangal Press Club -দক্ষিণবঙ্গ প্রেসক্লাব

সরকারি কর্মচারীরা ২০ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট চান


আলোকিত বার্তা:টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করে দেয়ার পর থেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে অভিযোগ করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। এ পরিস্থিতিতে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) ৫ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে বিনা সুদে ৩০ লাখ টাকা গৃহঋণও চেয়েছেন তারা।গত ১০ এপ্রিল অর্থ সচিবের কাছে এক চিঠি দিয়ে এসব সুবিধা চেয়েছে ঐক্য পরিষদ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে ঐক্য পরিষদ বলছে, হচ্ছে-টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তাদের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে ৫ ভাগ হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে চতুর্থ শ্রেণি, তৃতীয় শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা ভীষণভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ২০তম গ্রেডে বর্তমান জাতীয় পে-স্কেলে (৮২৫০-২০০১০)= ৮২৫০ টাকা’র ৫ শতাংশ মোট বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি পায় ৪১২ টাকা। অপরদিকে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বেতন বৃদ্ধি পায় ৪ হাজার টাকা। এটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি শুভঙ্করের ফাঁকি বলে ঐক্য পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন। তাদের যুক্তি সরকারি নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের যদি আগের মত যদি ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড দেয়া হতো তা হলে তারা এর চেয়ে অনেক বেশি উপকৃত হতেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান বাজারের ঊর্ধ্বগতি থামানো যাচ্ছে না। দিন দিন চাল-ডাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। তাই এ পরিস্থিতিতে আমাদের যদি টাইম স্কেল,সিলেকশন গ্রেড না দেয়া হয় তা হলে ৫ শতাংশের পরিবর্তে প্রতিবছর ২০ শতাংশ মূল বেতনের সাথে যোগ করার অনুরোধ করছি।একই সাথে পেনশন ভাতা শতকরা ২৩০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। কারণ বর্তমানে পেনশন ভাতা অর্ধেক সরকারের কাছে সমর্পণের বিধান রাখা হয়েছে। কেউ যদি ২০ লাখ টাকা পেনশনভাতা পান তবে সেক্ষেত্রে তাকে ১০ লাখ সরকারের কাছে সমর্পণ করতে হবে। বাকি ১০ লাখ টাকা দিয়ে একটি মুদি দোকান খোলাও সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেছে কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। তাই পূর্বের ন্যায় পুরো পেনশন ভাতা উত্তোলনের সুযোগ চেয়েছেন তারা।

ঐক্য পরিষদ আবেদনে আরও বলেছে, বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ শতাংশ সরল সুদে গৃহ নির্মাণ ঋণ দেওয়ার সুযোগ করা হয়েছে। সেখানে আমরা কর্মচারীরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছি। কারণ একজন কর্মচারী যদি ৪০ লাখ টাকা গৃহ নির্মাণ ঋণ গ্রহণ করে তাহলে তাকে প্রতি মাসে ১৮ হাজার টাকা কিস্তি গুণতে হবে। একজন কর্মচারীর চাকরি ৫ বছর পূর্ণ হলে তার আনুমানিক মূল বেতন ১০ হাজার ৫০০ টাকা দাঁড়াবে এবং সর্বসাকুল্যে তিনি ১৮ হাজার টাকা বেতন পাবেন। সেক্ষেত্রে গৃহ নির্মাণ ঋণ বাবদ ব্যাংক তার কাছ থেকে কত টাকা কর্তন করবে। তা আমাদের বোধগম্য নয়।বলা হয়েছে,আমরা ধরে নিতে পারি গৃহ নির্মাণ ঋণের জন্য ব্যাংকগুলো আমাদের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা কর্তন করবে। এরপর আর কোনো বেতন উত্তোলন করতে পারবো না। তাহলে আমরা আমাদের সংসারের ব্যয় কিভাবে নির্বাহ করবো? এর ফলে কর্মচারীরা গৃহ নির্মাণ ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।এতে আরও বলা হয়,এর আগে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেমন গাড়ি কেনার জন্য সুদবিহীন ৩০ লাখ টাকার ঋণ নিয়েছেন। এখন সরকারি কর্মচারীদেরও একইভাবে সুদবিহীন ৩০ লাখ টাকা গৃহ নির্মাণ ঋণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। যা আমরা ২০ বছরে পরিশোধ করবো। এ ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বয়সসীমা থাকবে না।জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ’র বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য অর্থ সচিব আবদুল রউফ তালুকদার ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরা পর এ বিষয়টি তার কাছে উত্থাপন করা হবে।

Top