তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু - Alokitobarta
আজ : বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া : ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পথচলার ইতি টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হচ্ছে।নতুন সংসদ এবং সরকারকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনও। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে সংসদ ভবন এলাকা ঘুরে দুই শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির নানা আয়োজন দেখা গেছে। তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মেলেনি কারোরই। পুরো সংসদ ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সবগুলো প্রবেশ গেটে দেওয়া হয়েছে ব্যারিকেড। মূল প্রবেশ গেটটি বন্ধ রয়েছে। ফটকে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। প্রধান সড়ক থেকে সংসদের মূল ভবনের সামনে লোকজনকে কাজ করতে দেখা গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় থাকছে পুলিশের পাশপাশি বিপুলসংখ্যক র‌্যাব, বিজিবি, এসএসএফ এবং পিজিআর সদস্যরা। ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী যুগান্তরকে বলেন, সংসদ ভবনের ভেতর এবং বাইরে ডেপ্লয়মেন্ট থাকবে। কেবল ডিএমপির পক্ষ থেকেই দুই হাজার ফোর্স মোতায়েন থাকবে। এছাড়া থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের সদস্যরাও। একই সঙ্গে ফের গণতন্ত্রের পথে হাঁটবে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। আজ বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এর আগে সংসদ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত শপথ কক্ষে সকাল ১০টায় দুই ভাগে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা। প্রথমে বিএনপিসহ তাদের জোটের সংসদ-সদস্যরা, এরপর জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের সংসদ-সদস্যরা এবং সবশেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্যরা শপথ নেবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।এর মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছরের মাথায় নতুন সরকার ও সংসদ পেতে যাচ্ছে দেশ। সেই সঙ্গে দিনবদলের অভিযাত্রার সূচনা হবে আজ থেকে।

সংসদ ভবনের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভবনের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। করিডর, লবি, কমিটি কক্ষ, সম্মেলন কক্ষ, প্রধান অধিবেশন কক্ষের আশপাশের এলাকা ও সদস্যদের নির্ধারিত আসনগুলো ধুয়েমুছে ঝকঝকে করা হচ্ছে। মেঝে ধোয়া, দেওয়াল ও কাচ পরিষ্কার, আসবাবপত্র ঘষে চকচকে করা, বৈদ্যুতিক সংযোগ-সবকিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। এছাড়া নবনির্বাচিত সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষগুলোও নতুনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। গুছিয়ে রাখা হচ্ছে ডেস্ক, চেয়ার, আলমারি, ফাইল কেবিনেট। কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শপথের দিন যেন কোনো কক্ষে অগোছাল অবস্থা না থাকে, সেজন্য প্রতিটি ঘর আলাদাভাবে পরিদর্শন করা হচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলোর সংস্কার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও টাইলস বদলানো হয়েছে, কোথাও রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। ভাঙা কাঠামো মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুধু সৌন্দর্য নয়, ভবনের কার্যকারিতাও নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ৩৬টি বাংলোবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি বাংলোবাড়ি ও ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট। এগুলোর অবস্থান রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে। এলাকাগুলো ‘মন্ত্রীপাড়া’ নামে পরিচিত।

সংসদ-সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের দিক থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ে বিএনপিকে জানাতে সোমবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এ সময় তিনি দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের নাসিমুল গনি বলেন, সংসদ-সদস্যদের শপথ সংসদের শপথকক্ষে আর মন্ত্রীদের শপথ বাইরে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দুই দফায় সংসদ-সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তারা একটি শপথ সংসদ-সদস্য হিসাবে শপথ নেবেন, অপর শপথটি নেবেন তারা সংস্কার ইস্যুতে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য।

গত বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। পরদিন শুক্রবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২ আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তাদের একসময়কার মিত্র জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট পায় ৭৭টি আসন। প্রথমবারের মতো এই দলটি জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। এই দুই দলের বাইরে এবারের নির্বাচনে একটি আসন পায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বাকি সাত আসনে জয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে বিএনপির নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষে পড়েছে মোট প্রদত্ত ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শপথের পরেই বেলা সাড়ে ১১টায় তাদের সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ ভবনের নবম তলায় অবস্থিত সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে তারা তাদের প্রধান নেতা নির্বাচিত করবেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার বলেন, মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠান শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনের এই সভা হবে। সংসদীয় দলের এই সভায় সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসাবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন ইনশাআল্লাহ। নিয়ম অনুযায়ী সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা লাভের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান এবারের নির্বাচনে ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ এই দুটি আসন থেকে জয়ী হন। শপথের আগে যে কোনো একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার বিধান থাকায় তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার আগেই দেশের প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে এক বিরল নজির গড়ে তোলেন তারেক রহমান। ভূমিধস বিজয়ের পর নিজেই ছুটে যান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধানদের বাসায়। সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। দেশের রাজনীতিতে এমন ঘটনা এর আগে ঘটেনি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের বড় এক ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে যাওয়া তারেক রহমান হচ্ছেন জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকারী, যারা কয়েক দশক ধরে এ দেশের রাজনীতিতে প্রভাব বজায় রেখে চলেছে। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা বেগম খালেদা জিয়া দুজনই ইতোপূর্বে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তারেক রহমানের বেলায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষস্থানে পৌঁছানোর এই পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রবাস জীবনসহ দীর্ঘ এক কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে তাকে আজকের এই পর্যায়ে আসতে হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও তার মা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পরেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালে তারেক রহমান যখন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন, তখন তার বয়স ছিল ত্রিশের কোঠায়। সেটি ছিল প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তার মায়ের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু। এর আগে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আর তার বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। যিনি ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখা জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।

মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আর সংসদ-সদস্যরা শপথ নেন জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত এই রীতি ভেঙে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে উন্মুক্ত স্থানে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অতিথি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। উপস্থিত থাকবেন জুলাই যোদ্ধারাও। শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেও যোগ দিতে পারছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তবে মোদির প্রতিনিধি হিসাবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তাছাড়া মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, পাকিস্তানের মন্ত্রী পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। শপথ অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সিনিয়র সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, সরকারের সিনিয়র সচিব ও সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশনপ্রধান এবং সিনিয়র সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

এদিকে সোমবার শপথ গ্রহণের স্থান সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা পরিদর্শন করে বিএনপির প্রতিনিধিদল। দলটির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু পরিদর্শনে যান। এ সময় তারা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলার সঙ্গে কথা বলেন। প্রস্তুতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সমন্বয় বৈঠকে যোগ দেন। এর আগে দক্ষিণ প্লাজা পরিদর্শন শেষে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, জনগণের সরকার জনগণের সামনে উন্মুক্ত পরিবেশে শপথ গ্রহণ করবে, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব নেবে। দেশবাসী এই আয়োজনের সাক্ষী থাকবে, এটা দেশবাসীরও চাওয়া।

এদিকে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষসহ সব মহলে কৌতূহল রয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলো বলছে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার ৩৫ থেকে ৩৭ সদস্যের হতে পারে। এর মধ্যে ২৬-২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে ৯ থেকে ১০ জনকে। শেষ মুহূর্তে আরও এক বা দুজন যোগ হতে পারেন। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপির মন্ত্রিসভা ছিল ৬০ সদস্যের। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, প্রবীণ-নবীন, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতাদের নিয়ে এবার মন্ত্রিসভা করতে চান তারেক রহমান। কারা তার মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাবেন, তা অনেকাংশে তিনি নিজেই ঠিক করছেন।

রাজধানীর যেসব সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে : শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট এড়াতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেক রোড এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। সোমবার বিকালে ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামীকাল জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। এ উপলক্ষ্যে সংসদ ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক লোকসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। অনুষ্ঠান চলার সময় খেজুরবাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন ক্রসিং) থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেক রোডে যান চলাচল সীমিত রাখা হবে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে সাময়িক অসুবিধা কমাতে ‘ডাইভারশনের’ মাধ্যমে বিকল্প পথে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেছে ট্রাফিক বিভাগ।

Top