সংসদ-সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদ-সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)।তাদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই দিন সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা শপথ নেবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ-সদস্যদের শপথ পড়াবেন। সাধারণত বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হয়ে থাকলেও এবার তেমনটা হচ্ছে না।এবার প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে ৪৫ থেকে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন হচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ উপলক্ষ্যে বঙ্গভবন,মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সরকারি পরিবহণ পুল সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।নতুন মন্ত্রিসভায় যারা স্থান পাচ্ছেন তাদের শপথ নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন করে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।নির্বাচিত সব সংসদ-সদস্যের ফোন নম্বর নির্বাচন কমিশন থেকে সংগ্রহ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।জানা গেছে, নির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।নতুন মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে গাড়ি,বাছাই করা হয়েছে সিকিউরিটি টিম এবং শপথের ফোল্ডার। সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ব্যস্ত সময় পার করছে।

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সিনিয়র সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবীসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, সরকারের সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশনপ্রধান এবং সিনিয়র সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার দেশি-বিদেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

এদিকে সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে শপথের অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন নিশ্চিত এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তটি সফল করতে যাবতীয় কাজ শেষ করে এনেছে। বিশেষ করে প্রটোকল এবং নিরাপত্তা থেকে শুরু করে অতিথি সেবা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখা যৌথভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে সংসদ ভবনের ভেতরে ও বাইরে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে যারা গাড়ি সহায়তা চাইবেন তাদের গাড়ি সরবরাহ করা হবে। তবে শপথ নিয়ে বঙ্গভবন থেকে বের হওয়ার সময় সিকিউরিটি ফোর্স, ফ্ল্যাগসহ গাড়িতে করে বাসায় ফিরবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এখনো নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামের তালিকা আসেনি। তবে যে কোনো সময় এই তালিকা পৌঁছে যেতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে ৪৫ থেকে ৫০টি গাড়ি, গাড়ির চালক ও গাড়ির ফ্ল্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও গাড়ি সরবরাহের প্রস্তুতি রয়েছে সরকারি পরিবহণপুলের।

এদিকে শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের বিষয়ে এক প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানটি ১৬ অথবা ১৭ ফেব্রুয়ারি হতে পারে। এরপর হবে না এবং হওয়ার কথাও নয়। কারণ ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে দাওয়াতপত্র পাঠানো কিংবা ফোন করা হচ্ছে। বিদেশি দূতাবাস, মিশনপ্রধানদের দাওয়াতপত্র পাঠানো শুরু হয়েছে। অন্য অতিথিদের কাছে আমন্ত্রণপত্র যথাসময়ে পৌঁছে যাবে। গণমাধ্যমে কর্মরত সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের নামের তালিকা প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট (পিআইডি) থেকে সংগ্রহ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এছাড়া বঙ্গভবনেও একই তালিকা পাঠিয়েছে পিআইডি। সাংবাদিকদের কাছে সময়মতো আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে যাবে।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফল ঘোষণায় বিএনপি জোট ২১৪ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে তাদের একসময়কার মিত্র জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার রাতে নির্বাচিত ২৯৭ জনের গেজেট প্রকাশ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ-সদস্যদের শপথ নেওয়ার মাধ্যমে শুরু হবে নতুন সংসদের যাত্রা। এরপরই দায়িত্ব গ্রহণ করবে নতুন সরকার।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্পিকার হিসাবে দায়িত্ব নেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। আত্মগোপনে থেকেই তিনি স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব নেন অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু। তিনি একাধিক মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ফলে নতুন সংসদ-সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এমন প্রেক্ষাপটে নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথ পড়ানোর ভার সিইসির ওপর অর্পণ করা হয়।

Top