বঙ্গবন্ধুর ম‍্যুরালে ফুল না দেয়া ও সিটি নির্বাচনে বিএনপি ভোট বেশি পাওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে বলি বিআরটিসির সৎ কর্মকর্তা নূর-ই-আলম - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বঙ্গবন্ধুর ম‍্যুরালে ফুল না দেয়া ও সিটি নির্বাচনে বিএনপি ভোট বেশি পাওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা ... বিনয়কাঠিতে জামায়াতে ইসলামীর দিনব্যাপী কর্মী শিক্ষা শিবির-২০২৬ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীন বরিশাল জেলা কমিটি গঠন কারাগারে হিন্দু বন্দিদের দুর্গাপূজা, প্রতিমা ও উপকরণ দিল কর্তৃপক্ষ হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশ পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ নীরব কোণঠাসা রাজপথের ত্যাগীরা, অধ্যাদেশ জারি সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরিতে ৩ বছরের কারাদণ্ড, ক্ষতি করলে ৫ বছর ১৩ জেলায় স্থানীয় সরকার বিভাগে নতুন উপপরিচালক নিয়োগ ধর্ম যার যার, পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশী

বঙ্গবন্ধুর ম‍্যুরালে ফুল না দেয়া ও সিটি নির্বাচনে বিএনপি ভোট বেশি পাওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে বলি বিআরটিসির সৎ কর্মকর্তা নূর-ই-আলম


এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া:বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের(বিআরটিসি) বঙ্গবন্ধুর ম‍্যুরালে ফুল না দেয়া ও সিটি নির্বাচনে বিএনপি ভোট বেশি পাওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে বলি
বিআরটিসির সৎ কর্মকর্তা নূর-ই-আলম। সততার কারণে বার বার অহেতুক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে এই কর্মকর্তাকে ।

বিআরটিসির একজন সৎ কর্মকর্তাকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে একটি চক্র দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারিদের।

বিআরটিসির একাধিক সূত্র, ভুক্তভোগী পক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পতিত আওয়ামী লীগের রোষানলে পরে বদলির ঘটনা ও অহেতুক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে । বঙ্গবন্ধুর ম‍্যুরালে বিআরটিসির সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ফুল দেয়।সেই সময় অনুপস্থিত থাকে হজ্জ করে এসেছে। তাই ম‍্যুরালে ফুল দেয়া পাপ মনে করে সেখানে যায়নি একারণ এবং আওয়ামী লীগের সময় ঢাকার সিটি নির্বাচনে তার কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী বেশি ভোট পাওয়ার কারণ যুক্ত হয়।তাই পতিত আওয়ামী লীগের রোষানলে পরতে হয় এই সৎ কর্মকর্তাকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সেখানেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেখানেই সততার সাথেই দায়িত্ব পালল করে আসছেন। সততা দিয়ে বিআরটিসির মুখ উজ্জ্বল কারি সৎ কর্মকর্তা কল‍্যাণপুর বাস ডিপোতে যোগদান করেই সেখানে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন ওতপ্রোতভাবে জড়িত দুর্নীতিবাজ অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের রোষানলে পরতে হয়েছে এই সৎ কর্মকর্তাকে।দুর্নীতিবাজ অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে মনগড়া কাল্পনিক তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গণ মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশন করেছেন দুর্নীতিবাজ অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কল‍্যাণপুর বাস ডিপোতে নূর-ই-আলমের যোগদানের সাথে সাথেই পাল্টে যায় কল‍্যাণপুর বাস ডিপো। সততা দিয়ে নতুন করে সাজাতে ব‍্যস্ত তার কর্মস্থল। তার কাজের মাধ্যমে ডিপো দুর্নীতির খোলস থেকে মুক্তি পেয়ে লাভে মুখ দেখে তখনই দুর্নীতিবাজদের মাথা নষ্ট হয় পরে তার বদলির জন্য উঠে পরে লাগে সেই অসাধু চক্র। পরে নানা ষড়যন্ত্রের কবলে পরে বদলির আদেশ হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, চালক, কর্মচারিদের মাঝে নূর-ই-আলম এক জন ভালো মানুষ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন ।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর কর্মকর্তা মো. নূর-ই-আলমকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য উত্থাপন করে সৎ কর্মকর্তা কে অহেতুক হয়রানি করতেছে বিআরটিসিতে থাকা অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী চক্র ।

নূর-ই-আলমের দাবি, প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে প্রকৃত তথ্য, দায়িত্বের পরিধি এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রশাসনিক নথি যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাঁর নাম বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এতে তাঁর দীর্ঘদিনের চাকরি ও ব্যক্তিগত সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে কল্যাণপুর বাস ডিপোতে একটি অকেজো বাস কেটে বিক্রির বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে নূর-ই-আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট বাসটি তাঁর দায়িত্বে যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে বাসটির কাটা বা বিক্রির সঙ্গে তাঁকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার বিষয়টি সঠিক নয়। এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে দায়িত্ব হস্তান্তর ও ডিপোর সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

বিভিন্ন ডিপোর রাজস্ব জমা না দেওয়া সংক্রান্ত যে অভিযোগ সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ডিপো ও দপ্তরে দায়িত্ব পালন করলেও প্রত্যেকটি আর্থিক লেনদেন বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য একজন কর্মকর্তাকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্ব বণ্টন, হিসাবরক্ষণ নথি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করলেই প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

এ ছাড়া যন্ত্রাংশ ক্রয়, বিল-ভাউচার, লিজ বাস পরিচালনা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে প্রকাশিত অভিযোগের ক্ষেত্রেও নূর-ই-আলমের বক্তব্য হলো এসব বিষয়ে তাঁর প্রকৃত দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানে একাধিক স্তরে অনুমোদন ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ক্রয় ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ছাড়া কোনো অনিয়মের দায় তাঁর ওপর বর্তানো সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

২০২৬ সালে বিআরটিসির লিজ বাস ও রুট পরিচালনা সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদ নিয়েও তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল না। ফলে ওই বিষয়েও তাঁকে জড়ানো তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।

নূর-ই-আলম আরও বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত বা বিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা স্বাভাবিক। কিন্তু অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা সিদ্ধান্ত প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ের অফিস আদেশ, দায়িত্ব বণ্টন, দায়িত্ব হস্তান্তর, হিসাব সংক্রান্ত নথি ও বিভাগীয় সিদ্ধান্ত যাচাই করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে এসব নথি যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশের অনুরোধ করছি।

এদিকে জানাযায়,নূর-ই-আলমকে ৩৮ মাস (০১.০৯.২৩ হতে ৩০.০৯.২৬)পযর্ন্ত কোন কাজ করতে দেয়নি।

বিআরটিসি তে ওএসডি করার কারন বঙ্গবন্ধুর ম‍্যুরালে ফুল না দেয়া ও ঢাকার সিটি নির্বাচনে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকাকালীন সময় তার ভোট কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী ভোট বেশি পাওয়া এবং সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার করনে। দুর্নীতির কথা বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রকাশ হলেই সব দোষ পরে সৎ অফিসারের কাধে অথচ তিনি কিছুই জানেন না। তাই তাকে সন্দেহের চোখে রেখে কোন কাজ করতে দেয়া হয়নি তাকে । এমনকি কোন কমিটিতেও রাখ হয়নি নূর-ই-আলম কে।অথচ তার দায়িত্ব হল ব্যবস্থাপক (সচিব), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)।বিআরটিসি-র সকল বিষয়ে নিযুক্ত থাকার কথা বিআরটিসির পরিপত্রে (charter of duties)।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নূর-ই-আলমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের সবগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা আদালতের রায় হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও পাঠকের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

নূর-ই-আলমের দাবি, তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি ও প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি অনুসরণ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে কোনো তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো তা পুনরায় যাচাই করে সংশোধনের উদ্যোগ নেবে এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর কর্মকর্তা মো. নূর-ই-আলমের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগের বিপরীতে তাঁর দেওয়া প্রতিবাদের মূল বক্তব্য নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
নূর-ই-আলমের প্রতিবাদের মূল বিষয়সমূহ:

• অকেজো বাস কেটে বিক্রি: কল্যাণপুর বাস ডিপোর এই ঘটনার সঙ্গে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত নন। বাসটি তাঁর দায়িত্বে যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। প্রকৃত সত্য জানতে দায়িত্ব হস্তান্তর ও ডিপোর নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

• রাজস্ব জমা না দেওয়া: বিভিন্ন ডিপোর আর্থিক লেনদেন বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য এককভাবে কোনো কর্মকর্তাকে দায়ী করা যায় না। দায়িত্ব বণ্টন ও হিসাবরক্ষণ নথি যাচাই করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

• ক্রয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রম: যন্ত্রাংশ ক্রয়, বিল-ভাউচার ও লিজ বাস পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানে একাধিক স্তরে অনুমোদনের পরই আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

• ২০২৬ সালের লিজ ও রুট পরিচালনা: এই কার্যক্রমের কোনো দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল না, ফলে এই অভিযোগে তাঁর নাম জড়ানো তথ্যগতভাবে ভুল।

• তদন্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: অভিযোগ ওঠা এবং তা প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আসার আগে কোনো অভিযোগকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা অনুচিত।

• চাঁদাবাজির অভিযোগ: তাঁর দাবি অনুযায়ী, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী কিছু ব্যক্তি যাচাই-বাছাই ছাড়া অপপ্রচার চালিয়ে তাঁর মুটোফোনে সংবাদ পাঠিয়ে অর্থ দাবি করছেন।

• আইনগত পদক্ষেপ: তাঁর সম্মানহানি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু কথা জানিয়েছেন ।

বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের ভাষ্য,বিআরটিসির ভিতরে যে কয় জন সৎ অফিসার রয়েছে তার মধ্যে নূর-ই-আলম এক জন। বিআরটিসিকে যে ব‍্যক্তি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে লাভ জনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম।তাকেই সততা দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন এই নূর-ই-আলম । তাই সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম সবার কাছে সৎ অফিসার হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিতেন। এটা দেখে অনেকের মধ্যে হিংসা হয়। পতিত আওয়ামী লীগের শাসন আমলে সব স্থানে কম বেশি দুর্নীতির আচর পরলেও বিআরটিসি সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সময় ছিলো ব‍্যতিক্রম। পরবর্তীকালে ১৫ই আগষ্ট শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর ছবিতে ফুল না দেয়ার কারন এবং সিটি নির্বাচনে তার কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী বেশি ভোট পাওয়া কে কেন্দ্র করে পতিত আওয়ামী লীগের রোষানলে পরতে হয় নূর-ই-আলম নামক কর্মকর্তা কে।

বিভিন্ন ডিপোর ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময় কখনো বদলি-বাণিজ্য করার অভিযোগ নেই নূর-ই-আলমের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) মোট ৩০টি দপ্তর বা অফিস রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি বাস ডিপো, ২টি ট্রাক ডিপো, ৪টি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং ২টি কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা রয়েছে।

বিআরটিসির বাস ডিপোসমূহ (২২টি)
• ঢাকা ও আশপাশের এলাকা: মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী।

• অন্যান্য বিভাগ ও জেলা: কুমিল্লা, সোনাপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, বগুড়া, পাবনা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, টুঙ্গিপাড়া।

অন্যান্য অফিসসমূহ
• ট্রাক ডিপো (২টি): ঢাকা ও চট্টগ্রাম।
• ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (৪টি): গাজীপুর, তেজগাঁও, টুঙ্গিপাড়া ও ঝিনাইদহ।
• কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা (২টি): তেজগাঁও ও গাজীপুর।

সংকটাপন্ন ইউনিট পুনরুদ্ধার, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং অপারেশনাল উৎকর্ষে প্রমাণিত নেতৃত্ব

নূর-ই-আলম একজন অভিজ্ঞ, ফলাফলমুখী এবং দূরদর্শী প্রশাসনিক ও অপারেশন ব্যবস্থাপক, যিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট এবং প্রধান কার্যালয়ে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি দক্ষ নেতৃত্ব, আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

২০১২ সালে সোনাপুর বাস ডিপোতে ইউনিট প্রধান হিসেবে তাঁর ব্যবস্থাপনাগত যাত্রা শুরু হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে সিলেট, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, গাজীপুর, কল্যাণপুর ও জোয়ার সাহারা বাস ডিপোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নেতৃত্ব প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রধান কার্যালয়ের অপারেশন বিভাগ, সচিবালয় শাখা এবং সচিব (বিআরটিসি) হিসেবে নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি অপারেশন বিভাগে ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ম্যানেজার (অপারেশন)-এর দায়িত্বও পালন করছেন।

তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো আর্থিক সংকট, প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং লোকসানে থাকা ইউনিটকে স্বল্প সময়ের মধ্যে পুনর্গঠন করে লাভজনক ও সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার অসাধারণ সক্ষমতা। তিনি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেননি, বরং প্রতিটি কর্মস্থলে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব বৃদ্ধি, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করেছেন।

নূর-ই-আলমের কর্মজীবনের আরেকটি অনন্য দিক হলো একই সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করার সক্ষমতা। বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষ সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে তাঁর ওপর আস্থা রেখে অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেছে এবং প্রতিবারই তিনি সফলভাবে সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

২০১৫ সালে তিনি একই সঙ্গে মোহাম্মদপুর ও গাবতলী বাস ডিপোর দায়িত্ব পালন করেন এবং উভয় ইউনিটেই নিয়মিত বেতন পরিশোধ, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং লাভজনক পরিচালনা নিশ্চিত করেন।

২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি একযোগে বিআরটিসির সচিব এবং জোয়ার সাহারা বাস ডিপোর ইউনিট প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় জোয়ার সাহারা ডিপো অগ্নিকাণ্ড, শ্রমিক অসন্তোষ, বকেয়া বেতন এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার কারণে চরম সংকটের মধ্যে ছিল। কর্তৃপক্ষ তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রেখে তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করে। মাত্র নয় মাসের মধ্যে তিনি বকেয়া বেতন পরিশোধ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ডিপোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে সফল হন।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে কল্যাণপুর বাস ডিপোতে সফলভাবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় জোয়ার সাহারা বাস ডিপোতে আর্থিক অনিয়ম উদ্ঘাটনের পর আবারও তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে কল্যাণপুর ও জোয়ার সাহারা বাস ডিপোর দায়িত্ব পালন করে মাত্র তিন মাসের মধ্যে তিনি বকেয়া বেতন, বৈশাখী ভাতা, ঈদ বোনাস এবং একাধিক মাসের বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে আর্থিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে ডিপোটিকে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর সেখানে নতুন ব্যবস্থাপকের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে তিনি তাঁর মূল দায়িত্বে ফিরে যান।মোহাম্মদপুর বাস ডিপোর দায়িত্ব গ্রহণের সময় সেখানে ৫৩ লক্ষ টাকার বকেয়া বেতন ছিল। দক্ষ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর অপারেশন পরিচালনার মাধ্যমে তিনি শুধু সেই বকেয়া পরিশোধই করেননি, বরং নিয়মিত মাসিক লাভ নিশ্চিত করে একটি স্থিতিশীল পরিচালন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।

কল্যাণপুর বাস ডিপোতে তাঁর নেতৃত্ব ছিল আরও ব্যতিক্রমধর্মী। ২০২১ সালে দায়িত্ব গ্রহণের সময় ডিপোর্টির আর্থিক ঘাটতি ছিল ৫ কোটিরও বেশি। মাত্র দুই বছরের মধ্যে তিনি ডিপোটিকে ঘুরে দাঁড় করিয়ে ২০২৩ সালে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ৭ কোটিরও বেশি উদ্বৃত্ত রেখে যান। এটি তাঁর কৌশলগত পরিকল্পনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং ফলাফলভিত্তিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

গাজীপুর বাস ডিপোতে তিনি ৬৮ লক্ষ টাকার বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন এবং কর্মচারীদের প্রাপ্য বেতন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। গাবতলী বাস ডিপোতে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করে দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করেন, যা পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের তদন্তেও প্রতিফলিত হয়।

সিলেট বাস ডিপোতে কর্মরত অবস্থায় লাভজনক পরিচালনার পাশাপাশি সরকারের বৈদেশিক ঋণ (DSL) পরিশোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা DSL পরিশোধ নিশ্চিত করেন, যা তাঁর আর্থিক দায়বদ্ধতা, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসনের প্রতি অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট প্রমাণ।

দীর্ঘ কর্মজীবনে মাঠপর্যায়ের অপারেশন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক পুনর্গঠন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে একজন বহুমাত্রিক কর্পোরেট নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সুশাসন, জবাবদিহিতা, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং দলগত নেতৃত্বই একটি প্রতিষ্ঠানের টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

আজ নূর-ই-আলম শুধু একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক নন; তিনি একজন Operational Turnaround Leader, যিনি সংকটাপন্ন ইউনিট পুনরুদ্ধার, আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং অপারেশনাল উৎকর্ষ অর্জনের ধারাবাহিক সক্ষমতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের প্রতিটি অধ্যায় দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, পেশাগত সততা, আর্থিক দক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি অটল অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

মূল দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জন নিয়ে তার কর্মপদ্ধতি তুলে ধরা হল :

১।কৌশলগত অপারেশন ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব

২।লোকসানগ্রস্ত ইউনিট পুনর্গঠন (Operational Turnaround)

২।আর্থিক পুনর্বিন্যাস ও রাজস্ব বৃদ্ধি

৩।ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা

৪।বকেয়া দায় ও বেতন নিষ্পত্তিতে কার্যকর পরিকল্পনা

৫।একযোগে একাধিক ইউনিটের সফল নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা

৬।সংকট ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনরুদ্ধার

৭।বৃহৎ জনবল পরিচালনা ও দল গঠন

৮।নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক সমন্বয়

৯।সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা

১০।পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা (Change Management)

১১।ফলাফলভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মসম্পাদন

১২।প্রশাসনিক সংস্কার ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি

১৩।আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ

বিআরটিসির সদ‍্য বিদায়ী আব্দুল লতিফ মোল্লার সময় বিআরটিসির অভ্যন্তরে নতুন করে তীব্র ক্ষোভ ও নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পরে ছিলো বলে বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। আর সেই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সৎ অফিসার নূর-ই-আলম কথা বলেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার গ্রহণ করেন সংস্থাটির কতৃপক্ষ। পরে বতর্মান সরকার বিভিন্ন সুত্রে জানতে পারে যে এক জন সৎ অফিসারের বিরুদ্ধে অন‍্যায় করা হয়েছে।

বিআরটিসির এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে বলেন নূর-ই-আলম এক জন সৎ অফিসার সততার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিক্ষায় পরতে হয়ে হয়েছে।আর সঠিক সিদ্ধান্তের কারনেই ভালো মানুষের দুষ্ট লোক শত্রু হয়। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। দুষ্ট চক্রের কথা না সুনলেই খারাপ বলে প্রকাশ করে এই চক্রটি।

বিআরটিসির চালক নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে বলেন, যে কয় জন ডিপোর ম্যানেজারে সাথে কাজ করেছি তার মধ্যে নূর-ই-আলম স‍্যার অন্যতম। তিনি সত্যি কারেরই এক জন ভালো মানুষ সৎ অফিসার। সততার জন্য দোয়া করি মৃত্যুর আগ পযর্ন্ত এমন জানি থাকতে পারে। এমন ম্যানেজার আমাদের গর্বের।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কর্মকর্তা নূর-ই-আলম বলেন আমার দায়িত্ব বা কাজ হল একটি এবাদত। তাই যখনই আমাকে যেখানেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা নিয়ে আমি কখনো ভাবিনি আমার দায়িত্ব আমি সঠিকভাবে করে যাচ্ছি তাই মহান মালিক আমার সহয় হবেন ।

Top