বরিশালে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় আওয়ামী লীগের পেতাত্মা বাবুল মোহরীর নেতৃত্বে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
ভার্চুয়াল মোহের ফাঁদে ঘরছাড়া কিশোর-কিশোরী শেয়ারবাজারের সংকট কি কাটবে?নতুন কোম্পানি আসার দুয়ার খুলছে কোথাও কর্মী ছাঁটাই প্রভাব কর্মসংস্থানে,বন্ধ হয়েছে অন্তত ৫০টির বেশি কারখানা সংসদ নির্বাচনে ভোট রক্ষায় দুর্বলতা ছিল, সিটি করপোরেশনে ভুল হবে না প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ জলবায়ু তহবিল,ঋণ নয় অনুদান চায় বাংলাদেশ ঝুঁকি ৬৩৮ কোটি ডলারের,এলডিসি উত্তরণের প্রভাব রপ্তানিতে ফ্লাইওভারে নতুন কৌশল ‘সুতা-ডাকাতি’রাতে রাজধানীতে ছিনতাইকারীর ফাঁদ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন রোজার আগেই কারসাজি,তেল পেঁয়াজ ডাল চিনি ছোলা খেজুরের দাম বাড়ছে দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই

বরিশালে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় আওয়ামী লীগের পেতাত্মা বাবুল মোহরীর নেতৃত্বে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক, :
বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে দৈনিক বরিশাল মুখপত্রের বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ ও যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক সাইফুল অপূর্বের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কথিত বিএনপি নেতা বাবুল মোহরী, সানি, দিপু, জুয়েল, জাকির, দিপু ও হায়দারসহ ২৫ থেকে ৩০ জন দুই সাংবাদিককে ঘিরে ধরে হামলা চালান। এ সময় তাদের ‘ভুয়া সাংবাদিক’ ও ‘আওয়ামী লীগের লোক’ বলে অপমান করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ ও সাইফুল অপূর্ব। তারা সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় ভিডিও ধারণের বিষয়টি দেখতে পেয়ে অভিযুক্তরা তাদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া এবং সংঘর্ষের ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। পরে দুই সাংবাদিককে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, ঘটনার সময় আশপাশের আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে নিজেদের ছাত্রদল-যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয় এবং সাংবাদিকদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—সংবাদ সংগ্রহের সময় কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ করাই কি একজন সাংবাদিকের অপরাধ?

সাংবাদিকদের অভিযোগ, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাদের পরিচয় নিয়ে অপমান, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং ধারণ করা সংবাদচিত্র মুছে দেওয়ার চেষ্টা স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সাংবাদিক মহলের দাবি, ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, হামলা এবং ভিডিও মুছে ফেলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তারা।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে বরিশাল আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য সম্ভাব্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সাংবাদিকদের দাবি, কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত—এমন পরিচয় ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, সাংবাদিককে লাঞ্ছিত কিংবা সংবাদচিত্র মুছে ফেলার অধিকার রাখেন না। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযুক্ত বাবুল মোহরী, সানি, দিপু, জুয়েল, জাকির, দিপু ও হায়দারসহ সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

Top