ছাপানো টাকায় সরকারের ঋণ ১৩০৯ কোটি টাকা - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাপানো টাকায় সরকারের ঋণ ১৩০৯ কোটি টাকা


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন:আয়ের চেয়ে খরচ বেশি হওয়ায় তীব্র অর্থ সংকটে পড়েছে সরকার।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাপানো টাকা বাজারে গিয়ে অর্থের প্রবাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে।ফলে চাহিদা বেড়ে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এতে সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির হারের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে ১ হাজার ৩০৯ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দৈনন্দিন কাজের জন্য ছাপানো টাকায় নেওয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতেও সরকারকে প্রকট অর্থ সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।প্রতিদিনের এ সংকট মেটাতে সরকার এখন বিভিন্ন খাতের ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ব্যাংক, নন-ব্যাংক খাতের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায়ও ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে।

সূত্র জানায়, সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। এসব হিসাবের হিসাবে প্রতিদিন যেমন বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ জমা হয়, তেমনি অর্থ খরচ হয়। এসব কাজে সংশ্লিষ্ট সংস্থার হিসাবে চাহিদামতো অর্থ থাকলে ওই খাত থেকেই ব্যয় করা হয়। আর হিসাবে চাহিদামতো অর্থ না থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যাংক অর্থের জোগান দিয়ে দেয়। দিন শেষে চূড়ান্ত হিসাবে অর্থের ঘাটতি থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সাময়িকভাবে ছাপানো টাকায় অর্থের জোগান দেওয়া হয়। দৈনন্দিন কাজের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় অর্থের জোগান দেওয়ার হয় একটি সাময়িক হিসাবের মাধ্যমে। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ল ছাপানো টাকায় দেওয়া ঋণ পুনরায় আদায় করে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের সাময়িক হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের যেমন জোগান দেয়, তেমনি আদায় করে। এ হিসাবে সাময়িকভাবে ঋণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বোচ্চ ১২ হাজার কোটি টাকার জোগান দেয়। এর বেশি ঋণ নিলেই তা অন্য সরকারের অন্য খাতে স্থানান্তর করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ওই সময়ে আদায়ের লক্ষ্য ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। ঘাটতি হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। রাজস্ব বোর্ড বহির্ভূত খাতেও রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হয়েছে। একদিকে সরকারের আয় কমেছে। অন্যদিকে নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে খরচ বেড়েছে। ফলে সরকারের হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে। এর মধ্যে দৈনন্দিন হিসাবেও ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় ঋণ নিচ্ছে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকার সাময়িক হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতের ঋণ আরও বেড়েছে। এদিকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ খাতে ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। তবে ঋণের স্থিতি এখনো ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে নিচে রয়েছে।এর বাইরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় সরকার বিভিন্ন খাতে ঋণ গ্রহণ করে। এ ঋণের স্থিতি ডিসেম্বর পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। জুন পর্যন্ত আরও বেশি ছিল অর্থাৎ ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার। যে কারণে ঋণের স্থিতি কমেছে।

Top