সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৫৯.৪৪, গণভোটে ৬০.৮৪ - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা বরিশালে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত ও বিএনপির নির্বাচনী সাফল্যে শুকরিয়া আদায়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফি... দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি বাধ্য করা হলে রাজপথে নামবো লক্ষ্মীপুর ২১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, আলোচনায় তানিয়া রব-খালেদ সাইফুল্লাহ নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ ২৫০ কোটি টাকার ফুলের বাজার ফেব্রুয়ারির তিন দিবসে মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাত সামলানো চ্যালেঞ্জ,নতুন সরকারের কাছে আকাশসম প্রত্যাশা হালুয়াঘাটে শিশুকে পিটিয়ে হত্যা বড় পরিবর্তন আসছে শাসন কাঠামোয় ,গণভোটে বিশাল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী

সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৫৯.৪৪, গণভোটে ৬০.৮৪


মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবেই ২১১টি আসনে জয় পেয়েছে।এর মিত্র তিন দল তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে।এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টিতে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ৬টিতে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন সাতটি আসনে।এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি একটি আসনেও জিততে পারেনি। শুক্রবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রকাশিত ফলাফলে এসব তথ্য জানা গেছে। সব মিলিয়ে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ও মিত্ররা ২১৪টিতে নির্বাচিত হয়েছেন।অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসনে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।ইসি জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। এছাড়া অনেক প্রার্থী অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী বা পরাজিত হয়েছেন। এদিকে জুলাই সনদের সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত চতুর্থ গণভোটে অংশ নিয়েছেন ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন। অর্থাৎ ভোটের হার ৬০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এরমধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন। আর সংস্কার বাস্তবায়নে অসম্মতি জানিয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন। একই দিন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হলেও দুটি নির্বাচনে ভোট পড়ার হারে দশমিক ৮২ শতাংশ পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার ছিলেন।

বৃহস্পতিবার দেশের ২৯৯টি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। কিছু এলাকায় প্রার্থীদের নানা অভিযোগ আর বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ শেষ হয়। শুক্রবার বিকালে ইসি ওই দুই নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করে। এ নির্বাচনে ৬০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি অংশ নিয়েছে। দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বাংলাদেশে এবারই প্রথমবার সংসদ নির্বাচনের দিনে একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এবারই প্রথম বাংলাদেশে পোস্টাল ভোটও নেওয়া হয়।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফলাফল ঘোষণা শুরু করে ইসি। নির্বাচন কমিশন প্রাঙ্গণে স্থাপিত ফলাফল প্রকাশ কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সারা রাত এবং শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ দলের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এই নির্বাচনের ফলে জাতি হিসাবে বিশ্বে মান, সম্মান ও ভাবমূর্তি বাড়বে। এর ফলে দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। আমরা জনগণ ও সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, আমাদের নির্মোহভাবে আইন প্রয়োগ করে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করার অঙ্গীকার ছিল। সরকারের সহযোগিতায় সবার অংশগ্রহণে সেটি সম্ভব হয়েছে। দেশবাসী ঈদ উৎসবের মতোই ভোট দিয়েছে। জাতি হিসাবে আমরা চূড়ান্তভাবে বিজয় অর্জন করেছি।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১৪ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আর স্বতন্ত্ররা পেয়েছেন ৭টি আসন।

বিএনপি একক দল হিসাবে ২১১টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং গণঅধিকার পরিষদ পেয়েছে ১টি। আর স্বতন্ত্ররা পেয়েছেন সাতটি আসন। চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হলেও তাদের গেজেট প্রকাশে আদালতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর আগে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়। এর ফলে ইসি ২৯৭টি আসনের গেজেট প্রকাশ করতে যাচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে বেশ কয়েকটি দলের নেতারা প্রার্থী হন। তাদের মধ্যে ববি হাজ্জাজসহ একাধিক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দলটি ২৯১ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এর মধ্যে ২১১ জন জয় পেয়েছেন। অপরদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১টি দল জোট গঠন করে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াতের ২২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬৮ জন জয়ী হয়েছেন। জোটের শরিকদের মধ্যে এনসিপির ৩২ জন নির্বাচন করলেও জিতেছেন ছয়জন। এবি পার্টির ৩০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউ জিততে পারেননি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুজন জয়ী হয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন প্রার্থী থাকলেও তাদের মাত্র একজন জয় পেয়েছেন। জাতীয় পার্টির ২০০ জন প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে থেকেও কেউই জয় পাননি।

অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় : ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, অল্প ভোটের ব্যবধানে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর জয় বা পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় এ চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিগত নির্বাচনগুলোয় কারা জয়ী হবেন, তা আগ থেকেই অনেকটা আঁচ করা যেত। এবার তা দেখা যায়নি।

ফলাফলে দেখা যায়, ঢাকা-৪ আসনে প্রায় ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট।

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চেয়ে ৫ হাজার ২৩৯ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ঢাকা-১০ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউল আলম। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকারের তুলনায় ৩ হাজার ৩০০ ভোট বেশি পেয়েছেন। নির্বাচনে শেখ রবিউল আলম ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট পেয়েছেন। আর জসীম উদ্দীন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট।

ঢাকা-১১ আসনের ফলাফলে ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। এ আসন থেকে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন। নাহিদ ইসলামের নিকটতম বিএনপি প্রার্থী এমএ কাইয়ুম ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ নাহিদ ইসলাম কাইয়ুমের চেয়ে ২ হাজার ৩৯ ভোট বেশি পেয়েছেন।

ঢাকা-১৩ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী মামুনুল হকের চেয়ে ২ হাজার ৩২০ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭ ভোট।

ঢাকা-১৬ আসনের ভোটে বেসরকারি ফলে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন। তিনি বিএনপির মো. আমিনুল হকের চেয়ে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে আব্দুল বাতেন মোট ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়েছেন। আর আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।

Top