নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি
মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া :ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী দলটি এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। নতুন সরকার গঠনে সব ধরনের প্রস্তুতিও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে পারে। নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের গেজেট প্রকাশের পর সংসদ সচিবালয়ে তাদের শপথ গ্রহণসহ এ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতিও রোববার বিকালের মধ্যে শেষ হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো এমনটিই জানিয়েছে। এজন্য নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের অনেকেই শুক্রবার ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। বাকিরা আজকের মধ্যে চলে আসবেন।বলা হচ্ছে-সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে একই দিন সন্ধ্যার পর অথবা পরদিন সোমবার বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত গাড়িও প্রস্তুত করা হয়েছে। অপরদিকে মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তাও প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে বিএনপি। এ নিয়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে সবার কাছে এবার খুবই গ্রহণযোগ্য হবে বিএনপি জোটের ‘চৌকশ’ মন্ত্রিসভা। যেখানে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও মেধাবী রাজনীতিকদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন তরুণ মুখও দেখা যেতে পারে। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীও শপথের তালিকায় থাকতে পারেন-এমনটিই বলছেন দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা।
নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা করতে চায় বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ফলে নতুন সরকারে কারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হচ্ছেন তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তবে এবার প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের উদ্যম-এই দুইয়ের সমন্বয়ে গঠন করা হবে নতুন মন্ত্রিসভা। সংসদ-সদস্য নন এমন কয়েকজন মেধাবী ও দলের জন্য নিবেদিত হেভিওয়েট নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হবে। তবে মন্ত্রিসভার আকার বেশি বড় হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারক কয়েকজন নেতা। তারা জানিয়েছেন, ৩২ থেকে ৪২ সদস্যের মধ্যে থাকতে পারে মন্ত্রিসভা। এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন। তবে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন জানা যাবে তা শপথের পর।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর মতে, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর সিনিয়র নেতারা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন এবং ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলীয় প্রধান। বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেন, বৈঠকে তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ নেন। বিশেষ করে মন্ত্রিসভায় কারা থাকতে পারেন তা নিয়ে পরামর্শ করেন তিনি। এছাড়া সংসদ-সদস্যেদের শপথ, মন্ত্রিসভা গঠনসহ নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।বিএনপির নীতিনির্ধারক আরেকজন নেতা বলেন, মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন সেটি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করছেন। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি ওই নীতিনির্ধারক।
দলটির একটি সূত্র জানায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে এমন গুঞ্জনও রয়েছে। স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হতে পারেন। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমানকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় আরও স্থান পেতে পারেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবীর, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারও। তবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হলে এদের কাউকে কাউকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্ব পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সংসদ-সদস্য না হয়ে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পান বা মন্ত্রী হন তাদের বলা হয় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। এ বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬-এর ২ ধারায় বলা রয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হতে নিযুক্ত হবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হতে মনোনীত হতে পারবেন।’ মন্ত্রিসভা ৪০ জনের হলে সে হিসাবে টেকনোক্র্যাট কোটায় চারজনকে মন্ত্রী করা যাবে।
নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রশীদ, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, মোহাম্মদ আলী আসগর লবি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মজিবর রহমান সরওয়ার, এবিএম মোশাররফ হোসেন, জহির উদ্দিন স্বপন, আব্দুস সালাম পিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, শরীফুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আফরোজা খান রিতা। এছাড়াও ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শামা ওবায়েদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লা বুলু, মো. শাজাহান, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, ড. রেজা কিবরিয়া, মো. মোশাররফ হোসেন ও সাঈদ আল নোমানও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।মিত্র দলগুলোর নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। বগুড়া-২ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে শেষ পর্যন্ত টেকনোক্র্যাট কোটায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত সংসদ সচিবালয়
নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন নিশ্চিত করতে শুক্রবার দিনভর বৈঠক করেন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে শপথের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তটি সফলভাবে করতে প্রটোকল, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সেবার বিষয় অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে সব পরিকল্পনা। বিশেষ করে প্রটোকল ও নিরাপত্তা থেকে শুরু করে অতিথি সেবা এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখা যৌথভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে সংসদ ভবনের ভেতর ও বাইরে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়েছে।সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান,নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে গেজেট প্রকাশ এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরামর্শের পর শপথ অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হবে। সংবিধানের ১৪৮-এর ২ অনুচ্ছেদ এবং ২(ক) অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখেই সব প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে; যাতে কোনো ধরনের সাংবিধানিক সংকট ছাড়াই নতুন সংসদ যাত্রা শুরু করতে পারে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আগামী সোমবার তিনি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন। এর আগে সংসদ সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে স্পিকারের পদ শূন্য এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় সংবিধানের বিশেষ বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন শপথ করাতে পারেন। সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণত বিদায়ি স্পিকার নতুন সংসদ-সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি শপথ না পড়ান, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া সংবিধানের ৩ নম্বর তফসিল অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তার মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। জাতীয় সংসদ পরিচালিত হয় যে কার্যপ্রণালি বিধি অনুসারে, সেখানে দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৫-এর ১ দফায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির শপথ পড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদের ২(ক) দফা অনুসরণ করে সিইসিকে এ দায়িত্ব দিতে চাইলেও এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির মতামত নিয়ে আদেশ জারি করতে হবে। তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট সমাধান আমাদের সংবিধানেই দেওয়া আছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া আছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্পিকারের পদ থেকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা ভাবা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে ২১১টি আসনে জয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তবে উচ্চ আদালতে মামলা অনিষ্পন্ন থাকায় দুটি আসনে গেজেট আপাতত হচ্ছে না। ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন অর্জন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস ১টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি আসন পায়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেন।
প্রস্তুত হচ্ছে বঙ্গভবন: সোমবারের মধ্যে মন্ত্রিসভার শপথের সম্ভাবনা
বিপুল ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসতে যাচ্ছে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় এবং একই সঙ্গে নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের গেজেট প্রকাশ শুক্রবার রাতের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এরপর সংসদ সচিবালয়ে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণসহ এ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি রোববার বিকালের মধ্যে শেষ হবে। একই দিন সন্ধ্যার পর বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ আয়োজন সম্পন্ন হতে পারে।এভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এমনটি জানিয়েছে।তবে অপর একটি সূত্র জানায়, সার্বিক প্রস্তুতি নিতে কোনো কারণে বিলম্ব হলে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান সোমবার পর্যন্ত গড়াতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দলের সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেবেন। এর আগে প্রথা অনুযায়ী সংসদ সচিবালয়ে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পর সরকার ও বিরোধী দল তাদের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে পৃথক বৈঠকে মিলিত হবে। সেখানে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দল বা জোটের পক্ষে নির্বাচিত সংসদ নেতা ওই বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যাবেন। সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাবেন।বঙ্গভবন থেকে এই আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তিনি তার মন্ত্রিসভার প্রয়োজনীয়সংখ্যক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীর নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবেন। সংসদ নেতার সরবরাহ করা তালিকা রাষ্ট্রপতি তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবেন। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মন্ত্রিসভার এ তালিকার প্রত্যেক সদস্যকে ফোন করে শপথ গ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ে বঙ্গভবনে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বাসায় গাড়ি পাঠানো হবে।
সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতোমধ্যে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা ও তাদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর সংগ্রহ করেছে। এছাড়া নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের সময় সরবরাহের জন্য নতুন ফোল্ডার এবং পতাকা কেনা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যবহারের জন্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত গাড়িও প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রস্তুত রাখা আছে ৫০টি গাড়ি। প্রয়োজনে আরও গাড়ি সরবরাহের প্রস্তুতি রেখেছে সরকারি পরিবহণ পুল।সরকারি পরিবহণ পুলের কমিশনার খায়রুল কবীর মেনন বলেন,আমাদের কাছে যে গাড়িগুলো রয়েছে, সেগুলো প্রস্তুত রেখেছি। আরও কিছু গাড়ি এখনো প্রস্তুত করার অপেক্ষায় রয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা যেসব গাড়ি ব্যবহার করছেন সেগুলো বুঝে পাওয়ার পর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হবে।
জানতে চাইলে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন,রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ-সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ বা ১৫১ আসনের বেশি আসন পাওয়া দল বা জোটের নির্বাচিত সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেবেন বা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রয়োজনীয়সংখ্যক সদস্যের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবেন। রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তালিকা সরবরাহ করে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নেওয়ার জন্য তাদের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানাতে নির্দেশ দেবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রাষ্ট্রপতির দেওয়া তালিকা অনুসারে শপথ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।নতুন মন্ত্রিসভার বিষয়ে শাহদীন মালিক বলেন,বিএনপিতে মন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রত্যাশী ব্যক্তি অনেক। যাদের মধ্যে অনেকে আগেও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিশ্চয় দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রিসভা গঠন করবেন।সিনিয়র ও জুনিয়রের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদ পাবে দেশের মানুষ।