মেহেন্দিগঞ্জে যুবলীগ নেতাকে জামায়াত সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদান - Alokitobarta
আজ : বুধবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেহেন্দিগঞ্জে যুবলীগ নেতাকে জামায়াত সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদান


নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল হক তালুকদারকে জামায়াত নেতা সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের অভিযোগ উঠেছে। যোগদানের ছবিটি বরিশাল-৪ আসনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ এছহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে জামায়াত নেতা আখ্যা দেওয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সবশেষ কমিটি পাশ হয় ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী। ২১ সদস্য বিশিষ্ট সেই কমিটিতে ২নং সিরিয়ালেই নাম রয়েছে শহিদুল হকের। এমন একজন আলোচিত যুবলীগ নেতাকে ‘জামায়াত নেতার ইসলামী আন্দোলনে যোগদান’ শিরোনাম দিয়ে কিভাবে একজন প্রার্থী ফেসবুকে দেন সেই প্রশ্ন এখন মুখে মুখে।
বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা-কাজিরহাট) আসনে ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী, চরমোনাই পীরের ভাই ও দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব সৈয়দ এছহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের এর ভেরিফাইড ফেসবুকে সেই পোস্টে লেখা হয়েছে, “বরিশাল ৪ আসনের হাত পাখার প্রার্থীর হাতে হাত রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ যোগদান করলেন আলিমাবাদ ইউনিয়নের জামায়াত নেতা শহীদুল ইসলাম তালুকদার।”
বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারছেননা এলাকাবাসী। তারা বলছেন, একজন দাগী আওয়ামী লীগারকে দলে নিয়েছে। তাও আবার তাকে জামায়াত নেতা আখ্যা দিয়ে। এটা একটা ইসলামী দলের প্রার্থীর ফেসবুকে দেওয়া অত্যন্ত বেমানান।
এদিকে আলিমাবাদের একজন প্রবীন ব্যক্তি জানান, শহীদুল তালুকদার যুবলীগ ক্যাডার ও এমপি পংকজ নাথের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিল।চরমোনাইর পীরের ভাই তাকে দলে নিয়ে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করছে।
একজন তরুণ জুলাই যোদ্ধা বলেন, ইসলামী আন্দোলনের একজন কেন্দ্রীয় নেতা হয়ে তিনি ফ্যাসিস্টদের তার দলে নিলেন কিভাবে আবার এটা নিয়ে মিথ্যাচারও করলেন। তার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে ঘোষণা দিলেন জামায়াত নেতার যোগদান। তার মতো একজন কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপি প্রার্থী যদি এভাবে মিথ্যাচার করতে পারে তাহলে তার কর্মী বাহিনী কেমন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি গাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শহীদুল তালুকদারের বিষয়ে আমাদের সন্দেহ হওয়ায় উপজেলা থেকে আমরা এখনো তার যোগদান গ্রহণ করিনি। তিনি আলিমাবাদ ইউনিয়নের ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এয়ানত দিয়ে ওখানে যোগদান করেছেন। তবে তার কথাবার্তা এখনো অসংলগ্ন। আমরা তাকে অবজারবেশনে রেখেছি।

Top