ব্যাংকে তারল্য সংকট ও সুদের হার বৃদ্ধিই মূল কারণ - Alokitobarta
আজ : বুধবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ

ব্যাংকে তারল্য সংকট ও সুদের হার বৃদ্ধিই মূল কারণ


মু.এ বি সিদ্দীক ভুঁইয়া:ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট ও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণের কারণে ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে বেসরকারি খাতের ঋণের মন্থরগতির মধ্যেও সরকারি খাতে নিট ঋণ প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এতে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের খরচও বেড়েছে। খরচ বাড়ার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিতে মন্থরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজস্ব আয় কম হওয়ার কারণে সরকারের ব্যাংক ঋণ বেশি মাত্রায় বেড়েছে। অন্যদিকে সরকারের ঋণ বাড়ার কারণে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যেমন বেড়েছে, তেমনই গত অর্থবছরের একই সময়ের প্রকৃত প্রবৃদ্ধির তুলনায়ও বেশি বেড়েছে। এদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক সম্পদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বেড়েছে। ফলে মুদ্রার সরবরাহও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ লক্ষ্যমাত্রার বেশ নিচে রয়েছে।

সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ৭৮ শতাংশই বিতরণ করা হয়েছে বেসরকারি খাতে। বাকি ২২ শতাংশ নিয়েছে সরকারি খাত। যে কারণে বেসরকারি খাতের ঋণই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিকাশের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। এ খাতে ঋণপ্রবাহের মন্থরগতিকে অর্থনৈতিক মন্থরতার চিত্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

এদিকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ও খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অর্থনীতিতে মন্থরগতি বিরাজ করছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির কারণে এবং আমানত সংগ্রহের নিম্নসীমা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ব্যাংকগুলো স্বীয় বিবেচনায় সুদহার নির্ধারণ করতে পারছে। এতে আমানতের সুদহার যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনই পলিসি রেট বৃদ্ধিসহ ঋণের সুদহার বাজারভিত্তিক করায় এ হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঋণের সুদের হার বাড়ার কারণে ঋণের খরচ বেড়ে গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। গত জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে মাত্র দেড় শতাংশ। ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতের প্রবৃদ্ধির হার ২ শতাংশের নিচে রয়েছে। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার বেশি হয়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। এদিকে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে সামান্য প্রবৃদ্ধির পর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল নেতিবাচক। অক্টোবর থেকে প্রবৃদ্ধি সামান্য ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। এখন পর্যন্ত তা ২ শতাংশ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এখনো প্রবৃদ্ধির হার অনেক কম।ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোয় তারল্যের চাপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ইসলামি ব্যাংকগুলোয় খেলাপি যেমন বেড়েছে, তেমনই তারল্যের চাপও বেশি বেড়েছে। এর প্রভাবে তারল্যের ব্যবস্থাপনাও বেশ চাপে পড়ে। ফলে ব্যাংকগুলোয় তারল্যের প্রবাহ সহনীয় মাত্রায় ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ টাকার জোগান বাড়িয়ে তারল্যের প্রবাহ বাড়ানো হয়।

Top