এলপিজির সংকট আরও ১৫ দিন - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এলপিজির সংকট আরও ১৫ দিন


জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা :গ্যাস সংকটে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তিতাসের পাইপলাইনের গ্যাস সংকট এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার সরবরাহে কারসাজি হওয়ায় অনেক বাসাবাড়িতে ঠিকমতো রান্নাবান্না হচ্ছে না।শুধু বাসাবাড়িতেই নয়, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে গ্যাস সংকট ততই বাড়ছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস কখন পাওয়া যাবে তা কেউ বলতে পারছেন না। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কমপক্ষে আরও ১৫ দিন লাগতে পারে।এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট কাটাতে জ্বালানি বিভাগ এলপিজি আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ কমাতে এবং ভোক্তা পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। বৃহস্পতিবার এনবিআরের কাছে এ সুপারিশ করা হয়। তবে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সকালে এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন লোটাবের সঙ্গে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে লোটাবের সভাপতি আমিরুল হক জানান, গ্যাস সংকট কাটতে কমপক্ষে ১৫ দিন লাগতে পারে। নতুন করে এলসি খোলা হচ্ছে। এলপিজি আসছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। এদিকে, কমিশন বৃদ্ধির আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির ডাকা ধর্মঘট বিকালে প্রত্যাহার করা হয়েছে।এর আগে এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম খানের নেতৃত্বে একটি দল বিইআরসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির দাবির ব্যাপারে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেছেন, ২০২১ সালের পর তাদের কমিশন বাড়ানো হয়নি। এরপর ৮ শতাংশ করে মুদ্রাস্ফীতি ধরলে তাদের দাবি অনেকটা যৌক্তিক।

জানা গেছে, দ্রুত এলপিজি আমদানির জন্য সরকারিভাবে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো-ইরানে অস্থিরতা। দেশটিতে বিক্ষোভের কারণে এলপিজির দাম বাড়ছে এবং মার্কেটে সংকট দেখা দিচ্ছে। তাই বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এলপিজি আনতে পারছেন না।সরকারি সংস্থাগুলো বলছে-২০২৪ সালে ১৬ লাখ টন এবং ২০২৫ সালে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। এলপিজি আমদানি এত কমল কেন তা কেউ বলতে পারছে না। তবে জানুয়ারিতে ১ লাখ ২০ টনের মতো এলপিজি আমদানি করা হবে জানা গেছে।এদিকে, তিতাসের গ্যাস সরবরাহ নিয়ে চিন্তায় সরকার। রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকায় এখন গ্যাস সংকট রয়েছে। অনেকে রান্নাবান্না করতে পারছেন না। ১৫-২০ দিন ধরে ঢাকার মগবাজার, নয়াটোলা, আমবাগান ও পাগলা মাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস নেই বললেই চলে। গভীর রাতে সামান্য গ্যাস এলেও ভোরের আগেই তা একেবারে ক্ষীণ হয়ে যায়। এরপর সারা দিন গ্যাসের কোনো অস্তিত্ব থাকে না। এতে রান্নাবান্না কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারীরা।

ঢাকার মগবাজার এলাকার বাসিন্দা মারিয়া আক্তার বলেন, দেড় মাস ধরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। রান্না করতে গিয়ে প্রতিদিন যেন যুদ্ধ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোরে ঘুম থেকে উঠেই রান্না শুরু করি। কিন্তু চাপ এতটাই কম যে-রান্না শেষ করতেই দুপুর গড়িয়ে যায়। সারা দিনই এখন রান্নাঘরে কাটে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, গ্যাস না পেলেও প্রতি মাসে ঠিকই নির্ধারিত বিল দিতে হচ্ছে। এ অত্যাচার শেষ হবে কবে? তার মতো হাতিরঝিল, নয়াটোলা, পাগলা মাজার, আমবাগান, মহানগর প্রজেক্ট, ঝিলকাননসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা একই দুর্ভোগের কথা জানান। গ্যাস সংকটের প্রভাবে বাসাবাড়িতে বিকল্প হিসাবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারকারীরাও বিপাকে পড়েছেন। বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এতে রান্নার ব্যয় বেড়ে নতুন সংকটে পড়েছেন অনেকে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাসের হটলাইন (১৬৪৯৬) ও রেগুলেটর সেকশনে (০১৯৫২-২৭৭৪১৪) যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। আগে অভিযোগ করলে কর্তৃপক্ষ এসে রেগুলেটরের মাধ্যমে চাপ কিছুটা বাড়িয়ে দিতেন। কিন্তু বর্তমানে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন কর্তৃপক্ষ কার্যত নীরব বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ আগের মতোই রয়েছে। তবে শীতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।শীত শেষে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু শীতে এত বড় সংকট হওয়ার কথা নয়। মূল সমস্যা হলো চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলা। পাশাপাশি শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে গিয়ে বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে সংকট আরও বেড়েছে।

চট্টগ্রামে এলপিজির সংকট চরমে: চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামজুড়ে গ্যাসের চরম সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডার নেই বললেই চলে। খুচরা বাজারে ১ হাজার ৩০৬ টাকার সিলিন্ডার দুই হাজার টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কৃত্রিম সংকট হিসাবে আখ্যায়িত করা হলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি কমে যাওয়ায় এলপিজি সংকট ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলপিজি আমদানি কমে গেছে। বড় বেশ কয়েকটি কোম্পানি এলপিজি আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ভেঙে পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থা। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় খুচরা বাজারে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

Top