বাজারে সব ধরনের গোশতই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাজারে সব ধরনের গোশতই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:বাজারে সব ধরনের গোশতই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। কিছু দিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গরুর গোশত ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া খাসি প্রতি কেজি ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোশতের পাশাপাশি কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। তবে বাজারে কয়েক ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে। গতকাল রাজধানীর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। রোজা শুরু হওয়ার আগেও ১৯০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ছিল। এ ছাড়া সোনালি মুরগির দামও বেড়ে প্রতি কেজি এখন ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা এবং দেশী মুরগি প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি না থাকলেও এখন কিছুটা কমেছে। কয়েকটি সবজি ১০ টাকা কমে এখন ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। সবজির মধ্যেথ মুলার কেজি ৪০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, কাঁচাকলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৫০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৭০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৪০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৩০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, গাজর ৪০ টা এবং কাঁচামরিচ মানভেদে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানের বাজারে এখন সবচেয়ে দামি সবজির তালিকায় রয়েছে সজনে, বরবটি ও করলা। এগুলো ১০০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২২০ টাকায়, দেশী মুরগির ডিমের হালি ৮৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।ক্রেতারা বলছেন, দুয়েকটি সবজির দাম কমলেও বেশির ভাগ সবজিরই মৌসুম অনুযায়ী দাম বাড়তি রয়ে গেছে। সেই সাথে গরু-খাসি-মুরগিসহ সব ধরনের গোশত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। সজনে, বরবটি, করলা, পটোলের দাম অনেক বেশি। এগুলো আমাদের সাধারণ মানুষের পক্ষে কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সব ধরনের পণ্য আনতে হলে অবশ্যই বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে আমরা যেমন দামে কিনতে পারি, সেই হিসাবেই খুচরা বাজারে বিক্রি করি। যে পণ্য আমাদের কিনতে বেশি দাম লাগে তা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করি।

রোজার আগে হুট করেই বেড়েছিল চালের দাম। মাঝে কিছুটা কমলেও ফের বেড়েছে গুটি থেকে নাজিরসহ সব ধরনের চালের দাম। কেজি প্রতি দুই থেকে তিন টাকা হারে বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাকে।খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারিতে বস্তা প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা হারে বেড়েছে। যার প্রভাব খুচরা বাজারে। পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরা বিক্রিতে কেজি প্রতি দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।বাজারে পাইজাম বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহেও ৫০ থেকে ৫২ টাকার মধ্যে ছিল। পাইজামের চাইতে মোটা চাল গুটি। সেখানেও কেজিতে বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায়। তুলনামূলক চিকন চালের মধ্যে দাম বেড়েছে মিনিকেটের। কেজিতে তিন টাকা পর্যন্ত বেড়ে ধরনভেদে এই চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। দাম বাড়ার মিছিলে পিছিয়ে নেই ধনীদের চাল হিসেবে পরিচিত নাজিরসাইল। কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। নগরীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬৬ থেকে ৭২ টাকা কেজি দরে।

মাছের বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, বাজারগুলোতে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা, এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, মাগুর মাছ ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকায়, কাতল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৬০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৬০০ টাকায়, পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকায়, রুপচাঁদা ১২০০ টাকা, বাইম মাছ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা, দেশী কই ১০০০ টাকা, মেনি মাছ ৭০০ টাকা, শোল মাছ ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা, বেলে মাছ ৭০০ টাকা এবং কাইকলা মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Top
%d bloggers like this: