আহ্বান গৌতমবুদ্ধের আদর্শে কর্ম প্রচেষ্টার - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আহ্বান গৌতমবুদ্ধের আদর্শে কর্ম প্রচেষ্টার


আলোকিত বার্তা:মহামতি গৌতমবুদ্ধের মহান আদর্শকে ধারণ করে দেশের উন্নয়নে বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে তাদের কর্ম প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে শুক্রবার এক বাণীতে এ আহ্বান জানান। শনিবার শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা।রাষ্ট্রপতি‘শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা’উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মৈত্রীময় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।আবদুল হামিদ বলেন, শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমার সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। মহামতি বুদ্ধ ছিলেন জীবের মঙ্গল কামনায় সত্যসন্ধ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পৃথিবীকে সুখী ও শান্তিপূর্ণ করে গড়ে তোলার জন্য গৌতম বুদ্ধ নিরন্তর প্রয়াস চালান। বুদ্ধের চেতনায় ছিল দুঃখ জয়ের মাধ্যমে জীবের মুক্তি কামনা। ‘চতুরার্য সত্য’ তত্ত্বে তিনি জীবনে দুঃখ, দুঃখের উৎপত্তি, দুঃখ ভোগের কারণ এবং তা থেকে মুক্তির পথ দেখান। তাঁর মতে ‘নির্বাণ’ লাভের মাধ্যমে মানুষ জীবনের পরমার্থ অর্জন এবং সকল প্রকার দুঃখ থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে পারে।আবদুর হামিদ উল্লেখ করেন,এ জন্য মহামতি গৌতম বুদ্ধ অষ্টমার্গ তথা প্রজ্ঞা, শীল ও সমাধি চর্চার উপদেশ দেন। তিনি স্থান-কাল-পাত্রের ঊর্ধ্বে ওঠে পৃথিবীর সকল জীবের কল্যাণ ও সুখ কামনা করেন। ‘সব্বে সত্তা সুখীতা হোন্তু’-পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হোক, এ ছিল বুদ্ধের শাশ্বত দর্শন।মহামতি বুদ্ধ একটি সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় আজীবন সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করে গেছেন এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অহিংস পরম ধর্ম’ বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজও সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। আজকের এই অশান্ত ও অসহিষ্ণু বিশ্বে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ, ধর্ম-বর্ণ-জাতিতে হানাহানি রোধসহ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহামতি বুদ্ধের দর্শন ও জীবনাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তাঁর বিশ্বাস।

আবদুর হামিদ বলেন,প্রাচীনকাল থেকে বাংলার জনপদের সাথে বৌদ্ধ সভ্যতা ও কৃষ্টি গভীরভাবে মিশে আছে।পাহাড়পুর ও ময়নামতি শালবন বিহার তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।তিনি বলেন,বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এ দেশের সকল ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্ম ও আচার অনুষ্ঠানাদি অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন করে আসছে। এটা ‘আমাদের সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ঐতিহ্য।রাষ্ট্রপতি কামনা করেন,শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা সবার জন্য বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি।

Top
%d bloggers like this: