১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দাবি সড়কে নিরাপত্তায় বাজেটে - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দাবি সড়কে নিরাপত্তায় বাজেটে


আলোকিত বার্তা:সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জাতীয় বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ৫ম বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ উপলক্ষে ‘নিরাপদ সড়ক: আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ কার্যক্রমের জন্য অর্থনৈতিক কোনো কোড নেই। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালক প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি, আক্রান্তদের উদ্ধার, চিকিৎসা সহায়তা ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।মূল প্রবন্ধে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী সড়ক নিরাপত্তা এখন প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, প্রতিবছর সারা বিশ্বে ১.২ মিলিয়ন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আহত হয় ২০ থেকে ৫০ মিলিয়ন। সংস্থাটি হিসাব মতে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি। আর লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, সারা বিশ্বের নিবন্ধিত যানবাহনের মাত্র ৪৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার দায় কাঁধে নিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২১ হাজার ৩১৬ জন। ২০১৬ সালে ২৪ হাজার ৯৫৪ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে তিন হাজার ৬৩৮ জন।তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনার ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করে গাড়ির গতিসীমার উপর। আমাদের জাতীয় মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মানের নয়। সেই হিসেবে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানোর সুযোগ সুবিধা থাকলেও চালানো হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগে। ফলে প্রাণহানি ও সম্পদহানি বেশি হচ্ছেআলোচনা সভায় বিআরটিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আয়ুবুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয় বা নেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু জবাবদিহির জায়গাটি নিশ্চিত করা হয় না। আমাদের এখানে যারা নীতিনির্ধারণ করেন, তারাই আবার মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি। জবাবদিহির ব্যাপারে যে অনাগ্রহ রয়েছে, এর মূলে রয়েছে এই স্বার্থের সংঘাত।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। সড়ক পরিবহন আইন ২০১১ সালে প্রণয়ন করা হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি।সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক সিগনাল চালুর আহ্বান জানিয়ে যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল বলেন, ট্রাফিক সিগনাল চালু থাকলে পথচারীরা সচেতন থাকেন এবং আশ্বস্ত থাকেন কিছুক্ষণ পরে গাড়ি চলবে। কিন্তু আমাদের সড়কে সেটা করতেই পারিনি।বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও এফবিসিসিআই’র পরিচালক আবদুল হক, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, বিআরটিএ’র রোড সেইফটি শাখার সহকারী পরিচালক মো. নেয়ামত উল্ল্যা লেনিন, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সিনিয়র আরবান প্ল্যানার তপন কুমার নাথ, মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদসহ প্রমুখ।

Top
%d bloggers like this: