৩ শতাধিক জনবল নিয়োগ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

৩ শতাধিক জনবল নিয়োগ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই


আলোকিত বার্তা:প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়সহ সরকার নির্ধারিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের অনুমোদন ছাড়াই পর্যটন কর্পোরেশনের জনবল কাঠামোতে ৩ শতাধিক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।এসব পদে নিয়োগ ছাড়াও তাদের প্রধান কার্যালয়ে বদলি, স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতিও দেয়া হয়। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়। ইতিমধ্যে পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের কাছে এর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক (আইসিটি) এহসানুল কবীর বাপ্পীর বিরুদ্ধেও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, প্রায় ৫ কোটি টাকার একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও সেখানে তেমন কোনো কাজ হয়নি। অনিয়ম-দুর্নীতির ভয়াবহ এ ঘটনায় দায়-দায়িত্ব নির্ধারণসহ জড়িতদের চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।বেশকিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে এ সপ্তাহে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এ ছাড়া পদ সৃষ্টিসহ জনবল নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম করে কারা কীভাবে নিয়োগ দিয়েছে সে বিষয়েও পৃথক তদন্ত কমিটি হচ্ছে।

জানা যায় বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের বিদ্যমান বিভিন্ন সংকট নিয়ে ১ এপ্রিল বৈঠক বসে মন্ত্রণালয়ে। এতে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক।উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ জামান খান কবিরসহ মন্ত্রণালয় ও কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্মকর্তারা। সভায় প্রথমে জনবল কাঠামো নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।এতে দেখা যায়, কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে এনাম কমিটির সুপারিশে অনুমোদিত পদ ৭৩টি এবং সরকার তথা প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২৩টি। মোট পদ ৯৬টি। এর মধ্যে শূন্যপদের সংখ্যা ৩৪টি। এছাড়া অতিরিক্ত পদ আছে ২৬টি। অপরদিকে কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক ইউনিটগুলোয় এনাম কমিটির সুপারিশে পদ সৃষ্টি করা হয় ৭৮টি এবং কর্পোরেশনের বোর্ড অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৩৩৪টি। মোট পদের সংখ্যা ৪১২টি। এর মধ্যে শূন্যপদ আছে ২৬৫টি।সভায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব উল্লেখিত পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের বিষয়ে কিছু গুরুতর অনিয়ম তুলে ধরে বলেন, পর্যটন কর্পোরেশন অর্ডার ১৯৭২-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী বিধিমালা প্রণয়ন না করে পর্যটন কর্পোরেশন ২২ ধারা প্রয়োগ করে প্রবিধিমালা করে। এছাড়া প্রণীত প্রবিধিমালায় কোনো পদসংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।কিন্তু বিধিমালা না করে কেন প্রবিধিমালা প্রণয়ন করা হল, সে বিষয়ে কর্পোরেশন সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। সভার শেষদিকে মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জনেন্দ্র নাথ সরকার সভাকে অবহিত করেন, পর্যটন কর্পোরেশন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি সংযুক্ত প্রতিষ্ঠান। তাই এককভাবে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো পদ সৃষ্টি করার এখতিয়ার নেই।

বিধিবিধান অনুযায়ী প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়সহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়,প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি এবং সবশেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু আইন না মেনে, কোনো বিধিবিধান অনুসরণ না করে শুধু বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে পদ সৃষ্টি করাসহ তাদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক সভায় উপস্থিত পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ জামান খান কবিরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন,এ বিষয়ে তিনি পুরোপুরি ওয়াকিবহাল ছিলেন না। তার যোগদানের আগে এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হয়েছে।’ সভার কার্যবিবরণীতে এভাবে বিষয়টি উঠে এসেছে।এদিকে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক আলোকিত বার্তার কাছে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। একই অভিমত ব্যক্ত করেন পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ জামান খান কবির।

Top
%d bloggers like this: