হে স্বাধীনতা। লাল-সবুজ বাঙালির অস্তিত্বে মিশে থাকা চেতনার নাম। - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

হে স্বাধীনতা। লাল-সবুজ বাঙালির অস্তিত্বে মিশে থাকা চেতনার নাম।


আলোকিত বার্তা:পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত জ্বলন্ত, ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে, নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক, এই বাংলায়, তোমাকে আসতেই হবে,হে স্বাধীনতা। লাল-সবুজ বাঙালির অস্তিত্বে মিশে থাকা চেতনার নাম। বাঙালি জাতির ভালোবাসা, হাসি-কান্না এবং আবেগের সবটুকু জুড়েই যেন রয়েছে স্বাধীনতা। স্বাধীনতা দিবস, বাঙালি জাতির জীবনে এক অমূল্য দিন। স্বাধীনতা মানেই যেন এক অন্যরকম অনুভূতি, এক অভিন্ন আনন্দ। স্বাধীনতার গৌরব আমরা ধারণ করেছি আমাদের অন্তরের অন্তস্থে।স্বাধীনতা কী অমূল্য সম্পদ! সূর্যের আলো যেমন সব জায়গাকে আলোকিত করে, এমনকি খোলা জানালা দিয়ে ঘরের প্রতিটি কোণা, তেমনি স্বাধীনতা ছড়িয়ে গেছে সবখানে। আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবগাঁথা দিন।১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল বীর বাঙালি। তাই আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে ৪৮তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করবে জাতি।আর এই স্বাধীনতা কবিতার ভাষায়, স্বাধীনতা তুমি রবিঠাকুরের অজর কবিতা,অবিনাশী গান। স্বাধীনতা তুমি কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো মহানপুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা- স্বাধীনতা তুমি শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা স্বাধীনতা তুমি পতাকা-শোভিত স্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল। স্বাধীনতা তুমি ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।

অমূল্য প্রাপ্তি স্বাধীনতা এই মহান শব্দটি নিয়ে আরও অসংখ্য কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক.গবেষক মুক্তিযোদ্ধারা সহস্র রকম লেখা লিখেছেন। স্বাধীনতা সত্যিকার অর্থেই বিশ্বকবিরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার মতোই মুক্ত বলাকা, যে বলাকা রৌদ্রকরোজ্জ্বল দুপুরে শুধুপাখা মেলে উড়ে বেড়ায়। সামনে থাকে সাদা মেঘের ভেলা। পেছনে পড়ে থাকে অন্ধকার।অন্ধকার হলো আমাদের পরাধীনতা, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠির ২৪ বছরের শোষণ,শাসন, নিপীড়িন, নির্যাতন। এই অন্ধকার হলো দুই শ’ বছরের শাসনের কারণে অন্ধকার। এই অন্ধকার হলো পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, মোগল, বখতিয়ার খিলজি, আর আর্যদের দখলদারিত্ব, অধিকারিত্ব এবং অযাচিত শাসন, ব্যবসা-বাণিজ্যের নামে লুটতরাজ। অর্থাৎ আড়াই হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক নিরীহ বাঙালিদেরকে বঙ্গবন্ধুর ভাষায় দাবায়ে রাখার নামই হলো অন্ধকার।পরাধীনতার দেয়াল ভাঙতে এ দেশের আপামর জনগণ দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামে। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা, সুদীর্ঘ সংগ্রামের বিনিময়ে অবিনাশী গান হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে। এ স্বাধীনতা তাই তো মিশে আছে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে।

এখন গৃহসজ্জা থেকে জীবনযাপনের নানা কিছুতে ফুটে ওঠে স্বাধীনতার রঙ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা, পঙ্ক্তি, স্বাধীন দেশের প্রকৃতিসহ নানা কিছু। দেশাত্মবোধ জাগ্রত রাখতে অনেকের ড্রইংরুমেই এখন শোভা পায় একতারা, দোতারা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক, ছবি। কেউ হয়তো ঘরের পর্দায় জড়িয়ে রাখছেন লাল-সবুজের রঙ, কেউহয়তো মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সংবলিত মগ উপহার দিচ্ছেন প্রিয়জনকে। মধুর সুরে দেশেরগান বাজতে শোনা যায় স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে।

আমাদের প্রত্যেকেরই ঘরে-বাইরে নিজেকে আর পরিবারকে উজ্জীবিত রাখতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। শুধু গল্প বলে নয়, নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিশুকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। স্টেশনারি দোকানে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্র সংবলিত প্রচ্ছদের খাতা পাওয়া যায়। শিশুদের লেখার জন্য এ ধরনের খাতা কিনে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে শিশুকে পরিচিত করাতে পারেন। মুক্তিযুদ্ধের চিত্র সংবলিত ড্রইং বইসহ শিশুদের প্রয়োজনীয় নানা কিছু এখন বাজারে পাওয়া যায়, যেগুলোয় ফুটে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের নানা খণ্ডচিত্র। এসব জিনিস উপহার দেওয়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে শিশুকে পরিচয় করাতে পারেন।এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তুলে ধরতে আর শ্রদ্ধা জানাতে পটভূমি হয়ে উঠেছে পোশাক। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্কদের বসনেও এখনশোভা পায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নানা মোটিফ। এ পোশাক কি শুধুই ফ্যাশনে আবদ্ধ? নাকি গৌরবের চেতনাবোধ থেকেই ধারণ করেছে? তরুণ প্রজন্ম দেশের প্রতি ভালবাসা থেকে স্বাধীনতার অহঙ্কারে গৌরবান্বিত হয়েই এমন পোশাক পরছে। যা তরুণ প্রজন্মকেমুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে।

সময়টাই যেন এখন জাগরণের। আর এই জাগরণের জয়গানে তরুণরা তো সবার সামনে। শুধুই তারাই নয়, গোটা দেশ যেনো মেতেছে আজ নতুন গানে। আর নতুন সুরের তালে। আবাল-বৃদ্ধবনিতা আজ স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত। তারই বহির্প্রকাশ আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও আজ স্পষ্ট। চলনে বলনে, পোশাকে-আশাকে দেশপ্রেমের প্রকাশ চোখে পড়ার মতো।১৯৭১ সালে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানরা যেমন বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল, তেমনি একদিন হয়তো বা কোনো এক প্রজন্মের সূর্যতরুণরা হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বে, দেশকে শত্রুমুক্ত করতে প্রয়োজনে আবারও হয়তো রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়বে এমনই আশা জাগানিয়া স্বপ্নের পানে তাকিয়ে এখন লাখো কোটি বাঙালি।স্বাধীনতা ইতিহাস আমাদের গৌরবের ইতিহাস। এ ইতিহাসকে অমলিন রাখতে আমরা যেমন হৃদয়ে লালন করি স্বাধীনতার চেতনা, তেমনি আমাদের জীবনযাপনেও মিশে রয়েছে স্বাধীনতার চেতনা। স্বাধীনতার ৪৮বছর পরও তরুণ প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধীদেরবিচারের দাবিতে সোচ্চার, তারা দেশের গান গায়, তারা লাল-সবুজ রঙ শরীরে জড়ায়,এটা আমাকে মুগ্ধ করে। তবে স্বাধীনতাকে শুধু হৃদয়ে লালন করলেই হবে না, তরুণপ্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসও জানতে হবে।’

বাঙালির স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলা ভাষার প্রতি সশ্রদ্ধ মমতা এবং এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের প্রবল অনুরণন। যে অনুরণনের প্রতিটি মুহূর্তে রয়েছে স্বাধীনচেতা বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের মহিমান্বিত গৌরব গাঁথা। দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম, যুদ্ধ এবং পরিণতিতে স্বাধীনতা অর্জন। আর এই অর্জনের ভেতর দিয়েই অন্ধকার সরিয়ে-সরিয়ে বাঙালির পথচলা হচ্ছে সেই ৪৮বছর আগে পাওয়া রক্তোজ্জ্বল বিজয়ের আলোয়।লক্ষণীয় কবি স্বাধীনতাকে আপন করে নিয়ে বলছেন- হয়ত মায়ের মতো, হয়ত বোনের মতো, হয়ত প্রেমিকার মতো করে। এবং এটিও খেয়াল করার বিষয় যে বার বার স্বাধীনতা তুমি ব্যবহার করছেন। যেন এই শব্দটি থেকে আনন্দের রস বেরিয়ে আসছে। দেখা যাচ্ছে আগের কবিতাটিতে যেসব জায়গায় পরাধীনতার ছায়া ছিল, এই কবিতায়সেসব জায়গায় রৌদ্র খেলা করছে।বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আমাদের লাল-সবুজ পতাকা। এই পতাকার সাথে জড়িয়ে আছে যেমন সংগ্রামের ইতিহাস, দুঃখের ইতিহাস; তেমনি বিজয়ের ইতিহাস, নতুন দেশ গড়ে তোলার ইতিহাস। বাংলাদেশের যেকোনো অর্জনে পতাকা জড়িয়ে ধরে আমরা বাংলা মাকে অনুভব করি।

Top
%d bloggers like this: